বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:যাত্রা-সহচরী - চারুচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় (১৯৩৭).pdf/১২৭

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
যাত্রা-সহচরী
১২৩

করিতে বাকি ছানাগুলিকে আপনার পক্ষপুটে ঢাকিয়া লইয়া পলায়ন করিল।

 ফটিকের চক্ষু দীপ্ত হইয়া উঠিল, উল্লাস জাগিয়া উঠিল, অবসন্ন দেহ আহারের আশায় স্ফুর্তিমান হইয়া উঠিল, সে হামাগুড়ি দিয়া অগ্রসর হইয়া ছানা দুটিকে লইতে গেল, আর ঠিক সেই মুহূর্তে সে ঘাড়ের উপর কাহারও বজ্রমুষ্টির প্রহার লাভ করিয়া মুখ থুব্‌ড়াইয়া মাটিতে পড়িয়া গেল।

 মাথা তুলিয়া দেখিবার পূর্ব্বেই অছিমদ্দি মিঞার বজ্রমুষ্টি ও বিভীষণ লাথি সেই স্বল্পদেহ পঙ্গুকে বারংবার লুটাপুটি খাওয়াইতে লাগিল। ইট খোলামকুচি প্রভৃতি কঠিন ধারালো জিনিসের সংঘর্ষে তাহার দেহ ক্ষতবিক্ষত রক্তাক্ত হইয়া উঠিল। সে নির্বাক্ নিস্পন্দভাবেই সমস্ত প্রহার সর্বাঙ্গে গ্রহণ করিল, তাহার বাধা দিবার বা আপত্তি করিবার কিছুমাত্র সামর্থ্য অবশিষ্ট ছিল না। অছিমদ্দি যখন ক্লান্ত হইয়া প্রহার হইতে বিরত হইল, তখনো ফটিক উঠিয়া বসিতে পারিল না, পড়িয়া থাকিয়াই মিটমিট করিয়া শুধু তাকাইতে লাগিল। অছিমদ্দি তাহার হাত ধরিয়া টানিয়া বসাইয়া দিল। এবং আপনার পুত্রকে থানায় পাঠাইয়া দিল।

 ফটিক অর্ধমৃত রক্তাক্ত কলেবরে পুলিশের অপেক্ষা করিয়া রহিল। সে যে তিন দিন কিছু খায় নাই, তাহার উপর এই দারুণ প্রহারে জর্জরিত হইয়াছে, সে কথা সে ভুলিয়া গেল, এখন পুলিশের আশঙ্কা তাহার হৃদয়মনকে একেবারে আচ্ছন্ন অভিভূত করিয়া ফেলিয়াছিল।

 সকাল গেল, মধ্যাহ্ন গেল, বৈকাল গেল, তাহার চোখের সাম্‌নে বসিয়া অছিমদ্দি সপরিবারে হাপুস হুপুস শব্দ করিয়া একরাশ ডাল ভাত ফটিকের দ্বারা আইত মুরগীর ছানা দুটা ছালম সহযোগে উদরসাৎ করিল। বিকালে ছোট ছোট ছেলেরা ছোট ছোট ধামী ভরিয়া মুড়ি মুড়কি লইয়া