প্রতিষ্ঠিত করিল। শিকারীর সম্মুখে শিকারের মতো, বিড়ালের সম্মুখে ইঁদুরের মতো ফটিকের সমস্ত বুদ্ধি লুপ্ত হইয়া কেবল ভয়ের আব্ছায়া তাহাকে বেষ্টন করিয়া রহিল। ফটিক সেই ভয়ের জোরেই কোনোমতে আপনাকে বহন করিয়া আকর্ষণ করিয়া লইয়া যাইতে লাগিল।
প্রহরীবেষ্টিত হইয়া সে যখন ন্যাংচাইয়া প্লুত গতিতে চলিতে আরম্ভ করিল, তখন শিশুরা করতালি দিয়া কলরব করিয়া উঠিল, রমণীগণ মুখে কাপড় চাপিয়া হাসিল, পুরুষেরা দন্তে দন্ত রাখিয়া অকথ্য কটূ কহিল। সে-সকল অপমানের প্রতি ফটিকের লক্ষ্য ছিল না, সে চক্ষে ঝাপ্সা দেখিতেছিল, তাহার কর্ণে তালা লাগিয়াছিল, বোধশক্তি লুপ্ত হইয়াছিল, সে ভয়ে যন্ত্রের মতো আপনাকে কোনোমতে বহন করিয়া চলিয়াছিল মাত্র।
পথে যাইতে যাইতে কত পথিক তাহাকে দেখিয়া চোর বা খুনে ভাবিতেছিল, আর স্বয়ং জমাদার ভাবিতেছিল কেমন করিয়া এই ব্যাপারটাকে স্বদেশী মাম্লা করিয়া তুলিয়া প্রমোশনের উপায় করিয়া লইতে পারা যায়।
প্রহরেক রাত্রির সময় তাহারা থানায় পৌঁছিল। ফটিক একটি কথাও বলিল না। তারা ঠাক্রুণ মরিয়া যাওয়ার পর তাহার সহিত কেহ করুণ ভাবে কথা কহে নাই, সেও সেই জন্য কখনও কাহারও সহিত কথা কহিবার বড় একটা আবশ্যক বোধ করে নাই। অব্যবহারে তাহার জিহ্বা জড় হইয়া গিয়াছিল, এখন ক্ষুধা ও ভয়ে তাহা ত পেটের দিকে টানিতেছিল। আর সে কিই বা বলিবে, বলিবারই বা আছে কি!
ফটিককে হাজতে পূরিয়া চাবি দিল। তাহার যে আহারের আবশ্যক হইতে পারে ইহা কাহারও খেয়াল হইল না। ফটিকের খোরাকীর পয়সা কয়টা জমাদার সাহেবের জেবে ঢুকিল।