নষ্টোদ্ধার
১
খৃষ্টমাসের আগের দিন সকালবেলা দুইটি অসাধারণ ঘটনা একই সঙ্গে ঘটিয়াছিল—সূর্যদেব আর ম্যসসিয়ে জাঁ-বাপ্তিস্ত্ গোদ্ফ্রয় সকালবেলাই উঠিয়াছিলেন।
নিঃসন্দেহ, ভরা শীতের মাঝখানে,পনেরো দিনের কোয়াসা আর মেঘলা আকাশ ঝাঁটাইয়া যখন সৌভাগ্যক্রমে উত্তরে বাতাস বহিয়া দিনটাকে শুক্নো ও স্বচ্ছ করিয়া তুলিয়াছিল তখন সূর্যদেবকে অকস্মাৎ তাঁহার তপ্ত রক্তরাগে পুরাতন বন্ধুর মতো প্রাভাতিক পারীশহরকে আলিঙ্গন করিতে দেখিয়া সকলেই খুশী হইয়া উঠিয়াছিল। সূর্যদেব হাজার হোক বড় কেউ-কেটা তো নহেন—তিনি বনিয়াদী লোক,দেবতা বলিয়া বহুকাল হইতেই পূজা পাইয়া আসিতেছেন। এদিকে ম্যস্সিয় জাঁ-বাপ্তিস্ত্ গোদ্ফ্রয়, তিনিও বড় কেউ-কেটা লোক ছিলেন না।—তিনি ধনবান্ মহাজন, সরকারী সুদী কারবারের বড় সাহেব, অনেক কোম্পানির ডিরেক্টার, কত সভাসমিতির মেম্বর, ইত্যাদি ইত্যাদি। ইনি বরং সূর্যদেবের চেয়েও একগুণ সেরা—সূর্যদেবকে তাঁহার উদয়কালের নিদ্দিষ্ট সময়ে আকাশে দেখা আশ্চর্য ব্যাপার নয়, কিন্তু এই ম্যস্সিয় গোদ্ফ্রয়ের প্রাভাতিক জাগরণ নিতান্তই আশ্চর্য ব্যাপার। আমরা বিশ্বস্তসূত্রে অবগত আছি যে সেই দিন সকালবেলা পৌনে আটটার কাছাকাছি সময়ে শ্রীযুক্ত সূর্যদেব আর শ্রীযুক্ত গোদফ্রয় এক সঙ্গেই উঠিয়াছিলেন।
কিন্তু এই লক্ষ্মীর বরপুত্রটির জাগরণ সূর্যদেবের জাগরণ হইতে ভিন্ন ধরণের হইয়াছিল। সেই চিরন্তনকালের অতিপুরাতন তবু লোকপ্রিয়