শয়নকক্ষে প্রবেশ করিয়া জানালার পর্দাগুলি একে একে খুলিয়া দিল, আগুন জ্বালিল এবং মুনিবের প্রসাধনের সকল আয়োজন এমন শ্রদ্ধা ও শৃঙ্খলার সঙ্গে করিতে লাগিল যেন ভক্ত পূজারী মন্দিরে ঠাকুরপূজার জো করিতেছে।
গোদ্ফ্রয় কোটের বোতাম লাগাইতে লাগাইতে কড়া মেজাজে জিজ্ঞাসা করিলেন—“কটা বেজেছে রে?”
শার্ল, উত্তর করিল—“আজ্ঞে আজ বড় শীত। ছ’টার সময় তো কনকনে ঠাণ্ডা ছিল, কিন্তু এখন হুজুর, আকাশ সাফ হয়ে রোদ্দুর উঠেছে, আজকের দিনটা সুভালাভালি যাবে বোধ হয়।”
গোদ্ফ্রয় ক্ষুর শানাইতে শানাইতে জানালার কাছে উঠিয়া গিয়া পর্দা সরাইয়া দেখিলেন, পথচত্বর আলোয় স্নান করিয়া উঠিয়াছে, বরফের উপর মিঠে রৌদ্র তরুণীর অধরে স্মিত হাস্যের মতো দেখাইতেছে। ও হরি, সত্যই ত!
মানুষ যতই কেন দেমাকী আর চালদুরুস্ত হোক না, চাকর-বাকরের সাম্নে কোনো রকম ভাবের আতিশয্য প্রকাশ করা যতই কেন বেআদবী লাগুক না, ডিসেম্বর মাসের শেষাশেষি সূর্যমুখ দেখিয়া মনের আনন্দ চাপিয়া রাখিবার শক্তি খুব অল্প লোকেরই থাকে। গোদ্ফ্রয় তাই অনুগ্রহ করিয়া আজ একটু হাসিলেন। বদ্ধ জলে বায়ুস্পর্শে কুঞ্চনের মতো সেই হাসিটুকু আর কাহারো মুখে দেখিলে তিনি নিশ্চয়ই খুব স্তম্ভিত হইতেন। যাহোক তবু তিনি হাসিয়াছিলেন; এবং এক মিনিটের জন্যও তিনি তাঁহার আপিন আদালত কার-কারবার সব ভুলিয়া বালকের ন্যায় অবাক্ প্রসন্ন মুখে দেখিতে লাগিলেন সকল পথচারী লোক ও গাড়ীঘোড়া সোনালী কোয়াসার ভিতর দিয়া কেমন আনন্দে আনাগোনা করিতেছে।