কিন্তু আপনারা নিশ্চিন্ত থাকুন, এ ভাব তাঁহার এক মিনিটের বেশি টিকিতে পারে নাই। সূর্যের মতো শুভ্র কিরণের দত্ত-বিকাশ করিয়া হাসা শোভা পায় তাহাদের যাহারা নিষ্কর্মা ফাজিল,—শোভা পায় স্ত্রীলোকের, শিশুর, ছোটলোকের, আর কবির। শ্রীযুক্ত গোদফ্রয়ের কি হাসিবার অবসর আছে, বিশেষ তো আজকার দিনে তাঁহার কাজের ভিড় বিস্তর আর গুরু। সাড়ে আটটা হইতে দশটা পর্যন্ত তাঁহাকে সমাগত বহু ভদ্রলোকের সঙ্গে বিশেষ জরুরি কারবারী পরামর্শ করিতে হইবে— যাঁহারা আসিবেন তাঁহারাও বড় কেউকেটা লোক নন, তাঁহারাও হাসেন না, তাঁহাদেরও একমাত্র চিন্তা শুধু টাকা আর টাকা। আহারের পরই তাঁহাকে আবার গাড়ী, করিয়া অনেক মহাশয় ব্যক্তির দ্বারে দ্বারে ঘুরিয়া অনেক কথা পাকা করিয়া আসিতে হইবে,— তাঁহারাও তাঁহারই মতন মহাজন, কাহারো সহিত সরস্বতীর সদ্ভাব নাই, সকলের সেই একই ধান্দা লক্ষ্মী ঠাকরুণের প্রসন্নতা। সেখান হইতে এক মিনিটও লোকসান করিবার জো নাই, শ্রীযুক্ত গোদফ্রয়কে আপিসে গিয়া সবুজবনাত-মোড়া বড়-বড়-দোয়াত-ভরা টেবিলে গিয়া বিরাজ করিতে হইবে, সেখানে আবার আর-একদল নূতন মহাজনের সঙ্গে পরামর্শ করিতে হইবে সেই একই গুরু বিষয়ে—টাকা রোজগার, অর্থসঞ্চয়, লক্ষ্মীলাভ। তাহার পর খুব সম্ভব তাঁহাকে তিন চারিটা কমিশনে বাহির হইয়া এমন সব লোকের সংসর্গে থাকিতে হইবে যাহারা অর্থ-উপার্জনের অতি তুচ্ছ সুযোগটিও ছাড়ে না অথচ ফ্রান্সের গর্ব গৌরবের আলোচনায় অনুগ্রহ করিয়া ঘণ্টাখানেক সময় অপব্যয় করিবার উদারতা যাহাদের আছে।
নিত্য ক্ষৌরী হইলেও গোদফ্রয় বরাবর এমন দুচারগাছা দাড়ির খোঁচ ছাড়িয়া দেন যে দেখিলে মনে হয় যেন রাঁধা শিককাবাবের উপর মুন-