গোঁপ-খেজুরে
কুড়েমির বাথান আর আরাম-আয়েসের আড্ডা ছিল সেই ব্লিদা শহরটি। সেখানে একজন মূর ভদ্রলোকের বাস ছিল,—বাপে মায়ে তাহার নাম রাখিয়াছিল সিদি লাকদার, আর শহরের সবাই তাহার নাম। রাখিয়াছিল ‘আলসে কুড়ে’।
পৃথিবীর মধ্যে অল্জেরিয়া কুড়েমির জন্য নামজাদা; তাহার মধ্যে ব্লিদা শহরটি বিশেষ; আর তাহার মধ্যে সিদি, লাকদার সবিশেষ। এই মহামহিমান্বিত ব্যক্তিটি আলস্যকেই নিজের আসল পেশা করিয়া তুলিয়াছিল;—অন্য লোকেরা কেউ দরজি, কেউ বা ভিস্তি, কেউ বা সরাইখানার বাবর্চি, কিন্তু সে, সিদি লাকদার, আলসে কুড়ে;—এতেই তাহার গৌরব!
পিতার মৃত্যুর পর সিদি লাকদার ওয়ারিস-সূত্রে একখানি বাগান-বাড়ীর মালিক হইল। সংসার অসার ও অনিত্য, এখানে, মেহনত করা মিথ্যা—এই মহাতত্ত্বটি সিদি লাকদারের বেশ মালুম হইয়াছিল। সে হাত পা এলাইয়া বাড়ীর মধ্যে পড়িয়া থাকাটাই উপযুক্ত মনে করিল। তাহার কুড়েমির তাড়সে অল্পদিনের মধ্যেই অতি সহজে বাড়ীটির দেহ মাটিতে মিশাইল; বাগানের চুনকামকরা নীচু প্রাচীরটিও খসিয়া এলাইয়া পড়িতে লাগিল; বাগানের দরজা আগাছার আক্রমণে আটক হইয়া অচল হইয়াই রহিল; —কুড়েমির এমনি ছোঁয়াচে মহিমা! বাগানে বাঁচিয়া রহিল এত অযত্নেও গোটাকত আঞ্জীর আর খেজুর গাছ, আর ঘাসের মাঝে গোটা দুই