আমি তোমায় ভালো বাস্তে পারব না, আমি আর-একজনকে যে ভালো বাসি।
পূজারী মের্জাইয়ের বন্ধ খুলিয়া বুকের ভিতর হইতে টাকার তোড়াটি বাহির করিলেন।
বেদিনী চিলের মতো ছোঁ মারিয়া তোড়াটি ছিনাইয়া লইয়া ছুটিয়া পলাইতে পলাইতে বলিয়া গেল—বুড়ো ঠাকুর, তোমায় ভালো বাস্ব গো খুব ভালো বাসব! তুমি খাসা লোক!
বুড়া বুড়ি তখনো পগারের আলের উপর বসিয়া ঘোড়ার শোকে হাপুস-নয়নে কাঁদিতেছিল।
পূজারী শহরের দিকেই চলিতে লাগিলেন। কোথায় কেন যাইতেছেন সে হুঁশ তাঁহার ছিল না; তিনি তখন ভাবিতেছিলেন যে ভগবানের এ কী নিয়ম, তাঁহারই সৃষ্ট কত প্রাণী কী বিষম দুঃখে কষ্টে নিমজ্জিত হইয়া আছে। পূজারী ভগবানের কাছে মনে মনে এই প্রার্থনা করিতেছিলেন— এই যে ধর্মজ্ঞানহীনা বেদিনী, ইহার অন্তর, হে ঈশ্বর, তোমার প্রকাশে উজ্জ্বল আলোকিত করিয়া তোলো। ‘যে তোমারে ডাকে না হে তারে তুমি ডাক ডাক!’ আহা অমন সুন্দর মেয়েটি!
হঠাৎ পথের মাঝে তাঁহার হুঁশ হইল যে তাঁহার শহরে যাওয়ার কষ্ট বেদিনী টাকার ভার হরণ করিয়াই লাঘব করিয়া দিয়া গিয়াছে—তাঁহার শহরে যাইবার আর প্রয়োজন নাই।
ধুলা পায়েই বৃদ্ধ আবার গৃহের দিকে ফিরিলেন।