বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:যাত্রা-সহচরী - চারুচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় (১৯৩৭).pdf/১৮২

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১৭৮
পূজার ঘণ্টা

যজমানদের কাছে নিজের সমস্ত পাপ অকপটে প্রকাশ করিয়া ধরিতে হইবে—চুরি প্রবঞ্চনা আর নয়, যজমানের ভক্তি কুড়ানো আর নয়।

*
* *

 পরদিন পূজারী মন্দিরে গিয়া পূজার আসনে বসিলেন। বৃদ্ধ তখন বিবর্ণ পারে আড়ষ্ট, খাঁড়ার সম্মুখে যেন বলি। তিনি দৃঢ় অকম্প কণ্ঠে বলিতে লাগিলেন—বৎস, তোমরা সকলে শোন...

 এমন সময় তরল মধুর উচ্চস্বরে পূজার ঘণ্টা বাজিয়া উঠিল, ঘণ্টাধ্বনির মধুর মূর্ছনায় পূজার মন্দির একেবারে ভরিয়া গেল। ... সকল পূজার্থী সবিস্ময়ে উৎকর্ণ . . . . হইয়া বলিয়া উঠিল—নূতন ঘণ্টা! নূতন ঘণ্টা!

 পূজারী ভক্তিগদ্‌গদ চিত্তে চক্ষু মুদ্রিত করিয়া ভাবিতে লাগিলেন— ভক্তবৎসল, তোমার এ কী অসম্ভব অতিপ্রাকৃত লীলা! হে ভগবান্! তোমার দীন হীন দাসের কলঙ্কমোচনের জন্য এ কী আশ্চর্য আয়োজন!

 সকল যজমানের পশ্চাতে এক পাশে দাড়াইয়া বুড়ী ঝি আনন্দদীপ্ত অপলক নেত্রে পূজারীর উপাসনা দেখিতেছিল। সে যে তাহার জীবনের সমস্ত সঞ্চয় দিয়া পূজারীর অতিদয়াজনিত অপরাধের প্রায়শ্চিত্ত করিয়াছে!

 ইহার পর পূজারীর আর আত্ম-অপরাধ প্রকাশ করা আবশ্যক হইল না।