স্ত্রীচরিত্র
পূজ্যপাদ শ্রীশ্রীশ্রীসঙ্ঘপাল মুমূক্ষু মহাশয় শ্রীশ্রীচরণকমলেষু।
মতিমন্, আমি বিপদে পড়িয়া আপনার শরণাপন্ন হইতেছি, কৃপা করিয়া রক্ষা করুন
আপনি বোধহয় জানেন, ওদন্তপুরীর রত্নাকর শ্রেষ্ঠীর কন্যা সুমিতার পাণিপ্রার্থী ছিলাম আমি। রমণীর জটিল মনস্তত্ত্বানভিজ্ঞ আমার সামান্য নির্বুদ্ধিতায় আমি তৎকর্তৃক পরিত্যক্ত হইয়াছি। ওঃ কি মনস্তাপ!
আপনি সুমিতাকে বাল্যাবধি জানেন,—অর্থাৎ আপনি অন্ততঃ মনে কবেন যে আপনি তাহাকে জানেন। কিন্তু হায়, রমণীচরিত্র নিতান্তই দুজ্ঞেয়। তাহাদের মতি, গতি, চিন্তাপ্রণালী, আচার ব্যবহার সবই পুরুষের পক্ষে দুজ্ঞেয়, চমৎকার, বিস্ময়কর। তাহাদের সন্তুষ্টি অসন্তুষ্টি কিসে যে হয়, তাহা বলা দুঃসাধ্য। দুঃসাধ্য বলিয়াই আমার আজ এই বিপদ। হায়! ' .
আমি সুমিতার শৈশবসঙ্গী। তাহার মনস্তত্ত্ব নিপুণতার সহিত অবগত হইয়াছি বলিয়া আমার বিশ্বাস ছিল; কিন্তু এখন আমার ভ্রান্তি উপলব্ধি করিতেছি। ওদন্তপুরীর ভিক্ষুসঙ্ঘের ধর্মপ্রভাবে সে আশৈশব পূতশীলা, ধর্মিষ্ঠা। সে ধর্মের নামে পাগল হয়; প্রভু তথাগত বুদ্ধদেবের প্রসঙ্গ আলোচনায় তাহার চিত্ত বায়ুমুখে। শুষ্কপত্রের মতো লঘুভাবে নৃত্য করিতে থাকে। তাহার রুষ্টি তুষ্টি ক্ষণে ক্ষণে; কত