বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:যাত্রা-সহচরী - চারুচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় (১৯৩৭).pdf/৯৭

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
স্ত্রীচরিত্র
৯৩

দিন তাহার নিগ্রহ ও পুরস্কার ভোগ করিয়াছি, কিন্তু এইবারকার মতো স্থায়ী ক্রোধ তাহার আর কখনো দেখি নাই। হায় অদৃষ্ট!

 আমি তাহাকে আমার প্রাণের মতন ভালোবাসিতাম, এখনও বাসি। সেও যেন ভালোবাসিত বোধ হইত; কিন্তু কেন এমন হইল! অত ভালোবাসা এক নিমেষে কেমন করিয়া নষ্ট হইয়া গেল!

 গত বৈশাখীপূর্ণিমার দিন আমার কার্যব্যপদেশে শ্রাবস্তিপুরীতে যাওয়া আবশ্যক হয়। আমি বিদেশে যাত্রার পূর্বে সুমিতার সহিত সাক্ষাৎ করিতে গেলাম। আমার বিদেশ যাত্রার কথা শুনিয়া তাহার সেই আয়ত চক্ষুদুটি অশ্রুভারে অবনত হইয়া পড়িল,— সে নীরবে আমার হাতখানি ধরিল। আহা, সে স্পর্শ কী বাকুলতা, কী স্নেহ ব্যক্ত করিয়া দিল; কি মোহ আমাকে আচ্ছন্ন করিল! অহো, সেই মদির স্পর্শ!

 আমি সত্বর প্রত্যাবর্তনের আশা দিয়া তাহার চক্ষুজল মুছাইয়া দিলাম। তখন সে বলিল,—‘তুমি নগরে যাইতেছ; নিদর্শনস্বরূপ আমার জন্য কিছু আনিও।’

 আমি বলিলাম,‘কি আনিব বল?’

 সে হাসিয়া বলিল,—‘আমি কি বলিব? আমার মনোমত যাহা হয় কিছু আনিও। আমি তোমার বিচার ক্ষমতা পরীক্ষা করিব।’ এই অনুরোধ আমার কাল হইয়াছে!

 আমি শ্রাবস্তিপুরীতে যাত্রা করিলাম। আমি কয়েকদিন কার্যে এমন ব্যস্ত ছিলাম যে সুমিতার অনুরোধ বিস্তৃত হইয়া গিয়াছিলাম। পথে আসিয়া মনে পড়িল। নিরুপায়। দুঃখিত মনে চিন্তিত হইলাম। সহসা একটা মতলব মনে পড়িল—কিঞ্চিৎ আশ্বস্ত হইলাম। হায় ভ্রান্ত আশ্বাস!