এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
পঞ্চম পরিচ্ছেদ।
২৩
একদিন হিরণ্মরী অমলার গৃহে শয়ন করিতে আসিলে পর, অমলা তাহাকে কহিল, “সংবাদ শুনিয়াছ, পুরন্দর শ্রেষ্ঠী না কি আট বৎসরের পর নগরে ফিরিয়া আসিয়াছে।” শুনিয়া হিরণ্ময়ী মুখ ফিরাইলেন—চক্ষুর জল অমলা না দেখিতে পায়। পৃথিবীর সঙ্গে হিরণ্ময়ীর শেষ সম্বন্ধ ঘুচিল। পুরন্দর তাঁহাকে ভুলিয়া গিয়াছে। নচেৎ ফিরিত না। পুরন্দর এক্ষণে মনে রাখুক বা ভুলুক, তাঁহার লাভ বা ক্ষতি কি? তথাপি যাহার স্নেহের কথা ভাবিয়া যাবজ্জীবন কাটাইয়াছেন, সে ভুলিয়াছে ভাবিতে হিরন্ময়ীর মনে কষ্ট হইল। হিরণ্ময়ী একবার ভাবিলেন— “ভুলেন নাই—কতকাল আমার জন্য বিদেশে থাকিবেন? বিশেষ তাহাতে তাঁহার পিতার মৃত্যু হইয়াছে—আর দেশে না আসিলে চলিবে কেন?” আবার ভাবিলেন, “আমি কুলটা সন্দেহ নাই—নহিলে পুরন্দরের কথা মনে করি কেন?”
অমলা কহিল, “পুরন্দরকে কি তোমার মনে পড়িতেছে না? পুরন্দর শচীসুত শেঠির ছেলে।”