পাতা:রংপুর সাহিত্য পরিষৎ পত্রিকা (সপ্তম ভাগ).pdf/১১৪

উইকিসংকলন থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


»७»०, ७ नश्श्J। ] So \) সিদ্ধপীঠেও উপাসনাদ্বারা সিদ্ধিলাভ করা যায়, ইহা আমরা শাস্ত্ৰে দেখিতে পাই। মহাত্মা ব্ৰহ্মানন্দ ও এই প্ৰসিদ্ধ সিদ্ধক্ষেত্র কােলঞ্জ গ্রামে জগন্মাতার উপাসনায় সিদ্ধি লাভ করিয়া মাতৃ দর্শনে কৃতাৰ্থ হইয়া প্রকৃত ব্ৰহ্মানন্দনামের সার্থকতা উপলব্ধি করিয়াছিলেন। তাহার সাধনার বিজয়পতাকারূপিণী জননী এখনও এই স্থানে জাগ্ৰাৎ স্বরূপে অবস্থান করিতেছেন। ব্ৰহ্মানন্দ যে স্থানে সিদ্ধি লাভ করিয়াছিলেন তাহার পাদদেশে পুরাকালে একটি নদী প্রবাহিত ছিল। তাহার চিহ্ন এখনও বিদ্যমান আছে। নদী শুষ্ক হইলেই বিল হয়, ইহা লোক প্ৰসিদ্ধি । পূর্বে যে রক্তদহের বিলের কথা উল্লেখ করিয়াছি, ঐ বিলের উত্তর তীরে কালঞ্জেশ্বরী দেবীর পীঠস্থান। নদীর যে সমুদায় স্থানে প্রশস্ততা ও জলের গভীরতা অধিক দেখা যায়, তাহাকে দহ বলে। দহ নদীর জলপ্রবাহের আবৰ্ত্ত হইতে উৎপন্ন হয়। নদীর অন্যান্য অংশ কালচক্রের আবৰ্ত্তনে বিলুপ্ত হইলেও জল প্রবাহের আবৰ্ত্ত হইতে উৎপন্ন দহ অনেক দিন তাহার চিহ্নস্বরূপে অবস্থান করে। রক্তদহ । পুরাকালে কোন একটি নদীর দহ ছিল ইহা প্রতীত হয়। পীঠস্থানের উত্তর অনুমান চারি ক্রোশ দূরে তুলসী-গঙ্গানদী এখনও বিদ্যমান আছে, ঐ নদী বগুড়া জেলার অন্তঃপাতী সোণামুখী নামক প্ৰসিদ্ধ হাটের উত্তর পার্শ্বে অবস্থিত, এই নদী এক্ষণে শুষ্ক প্রায় । ইহার একটি শাখা সোণামুখীর পূর্বে প্ৰায় ৬৭ রাশি দূর হইতে নিৰ্গত হইয়া দক্ষিণদিকে প্রবাহিত ছিল । বর্ষায় এখনও এই শাখা বেগবতী নদী-রূপে প্রবাহিত হইয়৷ থাকে। নিদাঘাগমের পূর্বে আবার শুষ্ক হইয়া মরানদী নাম ধারণ করে। এই মরানদীর সহিত পূর্বোক্ত নদীর প্রবাহ বর্ষাকালে তীব্ররূপে প্রবাহিত হয়, এই মরানদীর তীরবর্তী মুগীভাটা নামক একটি ক্ষুদ্রগ্রামের তলদেশে পুৰ্বমুখ হইতে প্রবাহিত একটি খাড়ি বা খাল আসিয়া পূর্বোক্ত নদীর সহিত মিলিত হইয়াছে। এই খালের দক্ষিণ তীরে প্রায় এক ক্রোশ দূরে আর একটি নদী-পুরাকালে দক্ষিণাভিমুখে এই খাল হইতে নিৰ্গত হইয়া প্রবাহিত ছিল, অথবা দক্ষিণ দিক হইতে প্রবহমান কোন নদী আসিয়া এই খালের সহিত মিলিত হইয়াছিল, উহার নিদর্শন এখনও সুচারুরূপে বিদ্যমান আছে। এই চিকু মাত্ৰাবশিষ্ট নদীই কালঞ্জেশ্বরীর পীঠস্থানের পশ্চিম ধার এবং দেহড়ানামক গ্রামের মধ্য দিয়া, জিনইর নামক জনশূন্য প্রাচীন পল্লীর দক্ষিণ ধারে অবস্থিত পূৰ্বাভিমুখে প্রবাহিত একটি খালের সহিত মিলিত হইয়াছে। এই খাল রক্তদহের বিলের সহিত সংমিলিত ; রক্তদহের বিল রাজসাহী জেলার অন্তৰ্গত বোদলা নামক গ্রামের পশ্চিম তট অবস্থিত । এই বিল দক্ষিণাভিমুখে রতনদাড়া নামক খালের সহিত মিলিত হইয়া, যমুনা নদীর সহিত যুক্ত হইয়াছে। এই নদীগুলির ভৌগোলিক তত্ত্ব বা পুরাতত্ত্বানুসন্ধানের ভার বরেন্দ্ৰ অনুসন্ধান সমিতির হন্তে অৰ্পিত হইল। পূর্বে যে মরানদীর উল্লেখ করিয়াছি, উহাই । পুরাকালে তুলসীগঙ্গা নামে খ্যাত ছিল। কালক্রমে উহা নষ্ট হইয়া গোমুখীর উত্তর ধারা দিয়া প্রবহমান নদীবেগই তুলসী-গঙ্গা নামে অভিহিত হইয়াছে। ইহা দেখিয়া কবিবার ভবভূতির “পুরা যাত্র স্রোতঃ পুলিন মধুনা তৃত্ৰ সরিতাং” এই কথাই মুনে পড়ে। তুলসীগঙ্গার উৎপত্নিস্থান কোথায়