পাতা:রংপুর সাহিত্য পরিষৎ পত্রিকা (সপ্তম ভাগ).pdf/১২০

উইকিসংকলন থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


১৩১৯, ৩য় সংখ্যা ] ন্যায় ও বৈশেষিক দর্শনে পরমাণুতত্ত্ব > Oslo যে রীতিক্রমে পরমাণুর সূক্ষ্মতমত্ব অবধারিত হইল, ঐ রীতিতে নিরবিয়বত্ব ও অবধারিত হইতে পারে। কিন্তু নিরবয়বত্বরূপে পরমাণুর পরিচয় দিতে হইলে সাবয়ব পদার্থমাত্রের অবয়ববিভাগ প্রসিদ্ধ করিতে হয়। নতুব। পরমাণুর নিরবয়বত্ব উপপন্ন হয় না। সাবয়ব বস্তুর অবয়ববিভাগ প্রত্যক্ষ ও অনুমান-দ্বারা স প্রমাণ হইতে পারে এবং যুক্তি দ্বারা ও সমর্থিত হইতে পারে। ঘট পটাদি নানাবিধ সাবয়বদ্রব্যের অবয়ববিভাগ দর্শন করিয়া এই ব্যাপ্তি-নিশ্চয় হয় যে, কি স্কুল কি সূক্ষ্ম যত কিছু সাবয়ব পদাৰ্থ আছে--সকলেরই অবয়ববিভাগ হইয়া থাকে ; প্ৰত্যুত যাহার অবয়ব আছে, সে ইন্দ্ৰিয় গ্রাহ্য হউক আর অতীন্দ্ৰিয়ই হউক অবশ্যই তাহার অবয়ববিভাগ হইবে । না হইবেই বা কেন ? সাবয়ব বস্তুর যে অবয়ববিভাগ হইবে, তাত কে নি বারণ করিতে পারে ? যদিচ আমরা অতি সূক্ষ্ম সুন্ম সাবয়ব অণুর অবয়ববিভাগের বিশেষ কোন উপায় নির্দেশ করিতে পারি না, তথাপি উহাদের নিয়মেই অবয়ব বি ভাগ হইয়। থাকে, অবয়ব ধারণা করিয়া কোন পদার্থই চিরকাল অবিভাজ্য অবস্থায় থাকিতে পারে না। অতএব যতক্ষণ অবয়ব থাকে, ততক্ষণ অবয়ববিভাগ হয়, ইহা স্বীকার করিতে হয়। এক্ষণে পরমাণুর নিরবয়বত্ব পক্ষে মনঃসংযোগ করুন, সাবয়ব পদার্থের পুনঃ পুনঃ অবয়ববিভাগ হইতে হইতে যদি দুইটি মাত্র অবয়ব থাকে, তথাপি একবার বিভাগ হয়; এই বিভাগের পর বিভক্ত দুইটি অবয়বের আর অবয়ব না থাকায় বিভাগের বিশ্রাম হইয়া থাকে । সুতরাং এই দুইটি অবয়বস্বরূপ, অবয়ববিভাগের স্থানস্বরূপ এবং নির বয়ব যে পদার্থ তাঁহাই পরমাণু বলিয়। প্ৰসিদ্ধ। কেহ কেহ পরমাণুর নিরবয়ত্ব বুঝিতে ন। পারিয়া পরমাণুকে অতি সুন্ম ছিদ্রের ন্যায় বোধ করেন এবং এতাদৃশ পরমাণু হইতে কিরূপে সৃষ্টি হয় বলিয়। আপত্তি ও করিয়া থাকেন। অতি প্ৰাচীন কালে কেবল ন্যায়বৈশেষি কবিদ পণ্ডিতেরাই পরমাণুর বিশেষ বিবরণ জানিতেন। এক্ষণে ও যাহারা কণাদসূত্র, গৌতমস্থাত্র অথবা অন্য কোন পদাৰ্থ-গ্ৰন্থ অধ্যয়ন করিয়া থাকেন, তাহারাই পরমাণু শব্দটির প্রকৃতাৰ্থ জানিয়াছেন। অন্যান্য পণ্ডিতদিগের মধ্যে অনেকেরই কর্ণকুহরে। এই শব্দটি এখন পৰ্য্যন্ত প্রবিষ্ট হয় নাই। কেহ কেহ বলেন, নৈয়ায়িকেরা পরমাণু নামে কি একটা নিরাকার পদার্থ স্বীকার করেন। নির বয়ব পরমাণুর এরূপ তাৎপৰ্য্য হইলে পরমাণু হইতে স্বষ্টির উপপত্তি করা অতীব দুঃসাধ্য, তাহাতে সন্দেহ নাই | পরমাণু নির বয়ব বটে, কিন্তু ছিদ্রের ন্যায় নহে। মূৰ্ত্তন্দ্রব্য যতই সূক্ষ্ম হয় না কেন, মূৰ্ত্ত্যধৰ্ম্ম পরিত্যাগ করিয়া অমূৰ্ব্য ধৰ্ম্ম গ্রহণ করে না। যাহা হউক নিরবয়ব পরমাণুর আরও কিঞ্চিৎ পরিচয় দেওয়া যাইতেছে,-অবয়ব শব্দের অঙ্গ বা অংশ অর্থ বুঝিতে হইবে; পরমাণু অবয়বস্বরূপ; নিরবয়ব বলিলে এই মনে করিতে হইবে, পরমাণু অন্যের অঙ্গ প্রত্যঙ্গস্বরূপ, পরমাণুর আর অঙ্গ প্রত্যঙ্গ নাই। যেরূপ হস্তপদাদি শরীৰ্বের, শাখুী:পল্লৱাদি বৃক্ষের অঙ্গ প্রত্যঙ্গ, সেইরূপ দুইটি পরমাণু হইতে কোন অণুর (দ্ব্যণুকের) উৎপত্তি হইলে দুইটি পরমাণু তাহার দুই অঙ্গ ; দশটি পরমাণু হইতে কোন অণুজন্মিলে দশটি পরমাণু এই অণুর অঙ্গ প্রত্যঙ্গ। এইরূপে পরমাণু নিখিল জন্যমূৰ্ত্তের অঙ্গ প্ৰত্যুঙ্গ হইয়া থাকে। কিন্তু পরমাণু অপেক্ষা এমন সূক্ষ্ম বস্তু নাই যে পরমাণু উৎপন্ন করিয়া তাহার অঙ্গ প্ৰত্যঙ্গ হইবে। ७ *