পাতা:রকম রকম - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়.pdf/৪০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

৪০

দারোগার দপ্তর, ৮২ম সংখ্যা।


শচীন্দ্রনাথের বিবাহের উপলক্ষে তাঁহার মনে নানাপ্রকার চিন্তা আসিয়া উপস্থিত হইতে লাগিল। প্রথম চিন্তা, এই সময় পুনর্ব্বার সতীন্দ্রনাথেরও বিবাহের চেষ্টা করেন। একটী বড় বালিকার সহিত তাহার বিবাহ দিতে না পারিলে, উহার চরিত্র সংশোধনের আর কোনরূপ উপায় নাই। দ্বিতীয় চিন্তা, শচীন্দ্রনাথের বিবাহের সময়ও উপস্থিত হইয়াছে। এই সময়ে তাহার বিবাহ দেওয়াও সম্পূর্ণরূপে কর্ত্তব্য; কিন্তু তাহার জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা সতীন্দ্রনাথের বিবাহ অগ্রে না হইলে কনিষ্ঠের বিবাহই বা হিন্দু হইয়া কিরূপে প্রদান করিতে পারেন।

 এইরূপ ও অন্যান্য নানা চিন্তায় তিনি একবারে অধীর হইয়া পড়িলেন কিন্তু আপনার মনের ভাব কাহারও নিকট প্রকাশ না করিয়া, কোন্‌ উপায় অবলম্বন করিলে, চারিদিক বজায় রাখিতে পারেন, কোন দিকে কোন গোলযোগ না হইয়া, সুশৃঙ্খলার সহিত তাঁহার মনের অভিলাষ সফল করিতে পারেন, কেবল সেই চিন্তাতেই আপন মন নিযুক্ত করিলেন।

 সনাতন অনেকরূপ ভাবিয়া চিন্তিয়া দেখিলেন যে, জুয়াচুরি ভিন্ন কোনরূপেই তিনি সতীন্দ্রনাথের বিবাহ দিতে পারেন না। সুতরাং পুত্ত্রের বিবাহের নিমিত্ত জুয়াচুরি-ব্যবসা অবলম্বন করিতেও তিনি কোন প্রকারেই কুণ্ঠিত হইলেন না। বিশেষতঃ তিনি মনে মনে যেরূপ জুয়াচুরির উপায় স্থির করিলেন, তাহা কার্য্যে পরিণত করিতে পারিলে যে, কেবলমাত্র তিনি তাঁহার দুশ্চরিত্র পুত্র সতীন্দ্রনাথের বিবাহ দিতে পারিবেন, তাহা নহে; সেই সঙ্গে সঙ্গে কন্যাপক্ষীয় লোকের নিকট হইতে তিনি কিছু অর্থও সংগ্রহ করিতে পারিবেন। মনে মনে এইরূপ স্থির করিয়া, এখন