পাতা:রজনী - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.djvu/১৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


YB . রজনী । চতুর্থ পরিচ্ছেদ । আমি প্রত্যহই ফুল লইয়া যাইতাম, ছোট বাবুর কথার শত্বপ্রবণ প্রায় ঘটিত না—কিন্তু কদাচিৎ দুই একদিন ঘটিত । সে আহলাদের কথা বলিতে পারি না। আমার বোধ হইত, বর্ষার জলভরা মেঘ যখন ডাকিয়া বর্ষে, তখন মেঘের বুঝি সেইরূপ আহলাদ হয় ; আমারও সেইরূপ ডাকিতে ইচ্ছা করিত। আমি প্রত্যহ মনে করিতাম আমি ছোটবাবুকে কতকগুলি বাছ ফুলের তোড়া বাধিয়া দিয়া আসিব—কিন্তু তাহা একদিনও পারিলাম না। একে লজ্জা করিত—আবার, এt.ম खैरिडाम ফুল দিলে তিনি দাম দিতে চাহিবেন–কি বধিয়া না লইব ? মনের দুঃখে ঘরে আসিয়া ফুল লইয়া ছোট বাবুকেই গড়িতাম। কি গড়িতাম, তাহা জানি না-কখন দেখি নাই। এদিকে আমার যাতায়াতে একটি অচিন্তনীয় ফল ফলিতে ছিল--আমি তাহার কিছুই জানিতাম না। পিতা মাতার কথোপকথনে তাহ প্রথম জানিতে পারিলাম। একদিন সন্ধ্যার পর, আমি মালা গাঁথিতে গাঁথিতে ঘুমাইয়া পড়িয়ছিলাম। কি একটা শব্দে নিদ্রা ভাঙ্গিল। জাগ্রত হইলে কর্ণে পিত; মাক্তার কথোপকথনের শব্দ প্রবেশ করিল। বোধ হয়, প্রদীপ নিবিয়া গিয়া থাকিবে, কেন না পিতা মাতা আমার নিদ্রাভঙ্গ জানিতে পারিলেন, এমত বোধ হইল না। আমিও আমার নাম গুনিয়া কোন সাড়াশা করিলাম না। শুনিলাম, ম৷ বলিতেছেন। “তবে একপ্রকার স্থিরই হইয়াছে?” . পিতা উত্তর করিলেন, “স্থির বৈকি ? আমন বড় মানুষ