বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:রজনী - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৮৯৫).pdf/১২৯

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
লবঙ্গলতার কথা।
১২৫

 মনে মনে বলিলাম, “কাণি! তুই ভালবাসার কি জানিস্! তুমি লবঙ্গলতার অপেক্ষা সহস্রগুণে সুখী।” প্রকাশ্যে বলিলাম, “না, রজনি আমার বুড়া স্বামী—আমি অত শত জানি না। তুমি শচীন্দ্রকে তবে বিবাহ করিবে, ইহা স্থির?”

 রজনী বলিল, “না।”

 আমি। সে কি? তবে, এত কথা কি বলিতেছিলে— এত কাঁদিলে কেন?

 রজনী। আমার সে সুখ কপালে নাই, বলিয়াই এত কাঁদিলাম।

 আমি। সে কি? আমি বিবাহ দিব।

 রজনী। দিতে পারিবেন না। অমরনাথ হইতে আমার সর্ব্বস্ব। অমরনাথ আমার বিষয় উদ্ধারের জন্য যাহা করিয়াছেন, পরের জন্য পরে কি তত করে? তাও ধরিনা, তিনি আপনার প্রাণ দিয়া আমার প্রাণরক্ষা করিয়াছেন।

 রজনী সে বৃত্তান্ত বলিল। পরে কহিল, যাঁহার কাছে আমি এত ঋণী, তিনি আমার যাহা করিবেন তাহাই হইবে। তিনি যখন অনুগ্রহ করিয়া আমাকে দাসী করিতে চাহিয়াছেন, তখন আমি তাঁহারই দাসী হইব, আর কাহারও নহে।”

 হরি! হরি! কেন বাছাকে সন্ন্যাসী দিয়া ঔষধ করিলাম! বিবাহ ব্যতীতও বিষয় থাকে—রজনী ত এখনই বিষয় দিতে চাহিতেছে। কিন্তু ছি! রজনীর দান লইব? ভিক্ষা মাগিয়া খাইব—সেও ভাল। আমি বলিয়াছি—আমি যদি এই বিবাহ