বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:রজনী - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৮৯৫).pdf/১৩

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
রজনীর কথা।

 লবঙ্গ। আজ্ঞে, ঠাকুরদাদামহাশয় দাসী হাজির।

 রাম। আমি যদি মরি?

 লব। “আমি তোমার বিষয় খাইব।” লবঙ্গ মনে মনে বলিত “আমি বিষ খাইব।” রামসদয়, তাহা মনে মনে জানিত।

 লবঙ্গ এত টাকা দিত, তবে বড়বাড়ীতে ফুল যোগান দুঃখ কেন? শুন।

 একদিন মার জ্বর। অন্তঃপুরে, বাবা যাইতে পারিবেন না—তবে আমি বৈ আর কে লবঙ্গলতাকে ফুল দিতে যাইবে? আমি লবঙ্গের জন্য ফুল লইয়া চলিলাম। অন্ধ হই, যাই হই—কলিকাতার রাস্তা সকল আমার নখদর্পণ ছিল। বেত্রহস্তে সর্ব্বত্র যাইতে পারিতাম, কখন গাড়ি ঘোড়ার সম্মুখে পড়ি নাই। অনেকবার পদচারীর ঘাড়ে পড়িয়াছি বটে—তাহার কারণ কেহ কেহ অন্ধযুবতী দেখিয়া সাড়া দেয় না, বরং বলে “আ মলো! দেখ্‌তে পাস্‌নে? কাণা নাকি?” আমি ভাবিতাম “উভয়তঃ।”

 ফুল লইয়া গিয়া লবঙ্গের কাছে গেলাম। দেখিয়া লবঙ্গ বলিলেন, “কিলো কাণী—আবার ফুল লইয়া মর্‌তে এয়েছিস্‌ কেন?” কাণী বলিলে আমার হাড় জ্বলিয়া যাইত—আমি কি কদর্য্য উত্তর দিতে যাইতে ছিলাম, এমত সময়ে সেখানে হঠাৎ কাহার পদধ্বনি শুনিলাম—কে আসিল। যে আসিল—সে বলিল,

 “এ কে ছোট মা?”