ছোট বাবু বলিলেন, “আমার দিকে চাও।”
চাব কি ছাই!
“আমার দিকে চোখ ফিরাও!”
কাণা চোকে শব্দভেদী বাণ মারিলাম। ছোট বাবুর মনের মত হইল না। তিনি আমার দাড়ি ধরিয়া, মুখ ফিরাইলেন।
ডাক্তারির কপালে আগুন জ্বেলে দিই। আমি মরিলাম! সেই চিবুক স্পর্শে
সেই স্পর্শ পুষ্পময়। সেই স্পর্শে যূথী, জাতি, মল্লিকা, সেফালিকা, কামিনী, গোলাপ, সেঁউতি—সব ফুলের ঘ্রাণ পাইলাম। বোধ হইল, আমার আশে পাশে ফুল, আমার মাথায় ফুল, আমার পায়ে ফুল, আমার পরণে ফুল, আমার বুকের ভিতর ফুলের রাশি। আ মরি মরি। কোন বিধাতা এ কুসুমময় স্পর্শ গড়িয়াছিল! আ মরি বলিয়াছি ত কাণার সুখ দুঃখ তোমরা বুঝিবে না। আ মরি মরি—সে নবনীত—সুকুমার— পুষ্পগন্ধময় বীণাধ্বনিবৎ স্পর্শ! বীণাধ্বনিবৎ স্পর্শ, যার চোখ আছে, সে বুঝিবে কি প্রকারে? আমার সুখ দুঃখ আমাতেই থাকুক। যখন সেই স্পর্শ মনে পড়িত, তখন কত বীণাধ্বনি কর্ণে শুনিতাম তাহা তুমি, বিলোলকটাক্ষকুশলিনি! কি বুঝিবে।
ছোট বাবু বলিলেন, “না, এ কাণা সারিবার নয়।”
আমার ত সেই জন্য ঘুম হইতে ছিল না।
লবঙ্গ বলিল, “তা না সারুক টাকা খরচ করিলে কাণার কি বিয়ে হয় না?