লবঙ্গ বলিল, “কেন, ছোট বাবু বিবাহ দেওয়াইবেন—হবে না কেন?”
আরও জ্বলিলাম। বলিলাম, “কেন আমি তোমাদের কাছে কি দোষ করেছি?”
লবঙ্গও রাগিল। বলিল,
“আঃ মলো! তোর কি বিয়ের মন নাই নাকি?”
আমি মাথা নাড়িয়া বলিলাম, “না।”
লবঙ্গ আরও রাগিল, বলিল,
“পাপিষ্ঠা কোথাকার! বিয়ে করবিনে কেন?”
আমি বলিলাম—“খুসি।”
লবঙ্গের মনে বোধ হয় সন্দেহ হইল—আমি ভ্রষ্টা—নহিলে বিবাহে অসম্মত কেন? সে বড় রাগ করিয়া বলিল,
“আঃ মলো! বের বলিতেছি—নহিলে খেঙরা মারিয়া বিদায় করিব।”
আমি উঠিলাম—আমার দুই অন্ধচক্ষে জল পড়িতেছিল—তাহা লবঙ্গকে দেখাইলাম না—ফিরিলাম। গৃহে যাইতেছিলাম, সিঁড়িতে আসিয়া একটু ইতস্ততঃ করিতেছিলাম,—কই, তিরস্কারের কথা কিছুই ত বলা হয় নাই—অকস্মাৎ কাহার পদশব্দ শুনিলাম। অন্ধের শ্রবণশক্তি অনৈসর্গিক প্রখরতা প্রাপ্ত হয়—আমি দুই একবার সে পদশব্দ শুনিয়াই চিনিয়াছিলাম কাহার পদবিক্ষেপের এ শব্দ। আমি সিঁড়িতে বসিলাম। ছোট বাবু আমার নিকটে আসিলে, আমাকে দেখিয়া