বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:রজনী - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৮৯৫).pdf/৫৮

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৫৪
রজনী।

বভ্রুবাহন কর্ত্তৃক পরাভূত। কাইসরকে যে বিথীনিয়ার রাণী বলিত, সে কথা অদ্যাপি প্রচলিত;― সেক্ষপীয়রকে বল‍্টের ভাঁড় বলিয়াছেন। যশ চাহি না।

 যশ, সাধারণলোকের মুখে। সাধারণলোক, কোন বিষয়েরই বিচারক নহে—কেন না সাধারণলোক মূর্খ এবং স্থূলবুদ্ধি। মুর্খ ও স্থূলবুদ্ধির কাছে যশস্বী হইয়া আমার কি সুখ হইবে? আমি যশ চাহি না।

 মান? সংসারে এমন লোক কে আছে, যে সে মানিলে সুখী হই? যে দুই চারিজন আছে, তাহাদিগের কাছে আমার মান আছে। অন্যের কাছে মান-অপমান মাত্র। রাজদরবারে মান―সে কেবল দাসত্বের প্রাধান্য চিহ্ন বলিয়া আমি অগ্রাহ্য করি। আমি মান চাহি না। মান চাহি কেবল আপনার কাছে।

 রূপ? কতটুকু চাই? কিছু চাই। লোকে দেখিয়া, না নিষ্ঠীবন ত্যাগ করে। আমাকে দেখিয়া কেহ নিষ্ঠীবন ত্যাগ করে না। রূপ যাহা আছে, তাহাই আমার যথেষ্ট।

 স্বাস্থ্য? আমার স্বাস্থ্য অদ্যপি অনন্ত।

 বল? লইয়া কি করিব? প্রহারের জন্য বল আবশ্যক। আমি কাহাকেও প্রহার করিতে চাহি না।

 বুদ্ধি? এ সংসারে, কেহ কথন বুদ্ধির অভাব আছে মনে করে নাই—আমিও করি না। সকলেই আপনাকে অত্যন্ত বুদ্ধিমান্ বলিয়া জানে, আমিও জানি।