আমি ঐ কাগজ লইয়া পড়িতে লাগিলাম। তাহাতে পাইলাম যে হরেকৃষ্ণ দাসের শ্যালীপতি রাজচন্দ্র দাস; এবং হরেকৃষ্ণের কন্যার নাম রজনী।
প্রমাণ যাহা দেখিলাম তাহা ভয়ানক বটে। আমরা এত দিন অন্ধ রজনীর ধনে ধনী হইয়া তাহাকে দরিদ্র বলিয়া ঘৃণা করিতেছিলাম।
বিষ্ণুরাম একটি জোবানবন্দীর জাবেদা নকল আমার হাতে দিয়া বলিলেন,
“এক্ষণে দেখুন, এই জোবানবন্দী কাহার?”
আমি পড়িয়া দেখিলাম, যে জোবানবন্দীর বক্তা হরেকৃষ্ণ দাস। মাজিষ্ট্রেটের সন্মুখে তিনি এক বালাচুরীর মোকদ্দমায় এই জোবানবন্দী দিতেছেন। জোবানবন্দীতে পিতার নাম ও বাসস্থান লেখা থাকে; তাহাও পড়িয়া দেখিলাম। তাহা মনোহরদাসের পিতার নাম ও বাসস্থানের সঙ্গে মিলিল। বিষ্ণুরাম জিজ্ঞাসা করিলেন,
“মনোহর দাসের ভাই হরেক্বষ্ণের এই জোবানবন্দী বলিয়া আপনার বোধ হইতেছে কি না?”
আমি। বোধ হইতেছে।
বিষ্ণু। যদি সংশয় থাকে তবে এখনই তাহা ভঞ্জন হইবে। পড়িয়া যাউন।
পড়িতে লাগিলাম যে সে বলিতেছে, “আমার ছয়মাসের একটি কন্যা আছে। এক সপ্তাহ হইল তাহার অন্নপ্রাশন