অনুবাদকের মন্তব্য।
রত্নাবলী-নাটিকা কাশ্মীর-রাজ শ্রীহর্ষ-দেবের প্রণীত বলিয়া প্রসিদ্ধ। কিন্তু কাব্য-প্রকাশের গ্রন্থকার বলেন, ইহা তাঁহার স্বরচিত নহে। কাহারও মতে ইহা ধাবক-কবির রচিত, কাহারও মতে কাদম্বরী-প্রণেতা বাণভট্টের রচিত।
শ্রীহর্ষ-দেবের রাজত্বকাল নির্ণয় সম্বন্ধেও পণ্ডিতগণের মধ্যে মতান্তর দেখা যায়। পণ্ডিতবর উইলসন সাহেব বলেন, কাশ্মীররাজ শ্রীহর্ষ-দেব ১১১৩ খৃষ্টাব্দে সিংহাসনে আরোহণ করিয়া ১১২৫ খৃষ্টাব্দ পর্য্যন্ত রাজত্ব করেন। কিন্তু ডাক্তার হল্ সাহেব বলেন, শ্রীহর্ষ-দেব খৃষ্টাব্দ ৬১০ হইতে ৬৫০ পর্যন্ত রাজত্ব করেন। জর্ন্মাণ পণ্ডিত ওএবার এই মতের পক্ষপাতী। এই মতটি গ্রহণ করিলে রত্নাবলী-নাটিকা খৃষ্টের সপ্তম শতাব্দিতে রচিত বলিয়া স্থির করিতে হয়। ইহার এক শতাব্দি পূর্ব্বে মহাকবি কালিদাসের আবির্ভাবকাল। এই নাটিকার বর্ণিত নায়ক-নায়িকার প্রণয়-বিলাস-চিত্রে কতকটা কালীদাসের শকুন্তলার ছায়া উপলব্ধি হয়।
কাশ্মীর-রাজ শ্রীহর্ষ দেবের আর এক নাম, শীলাদিত্য (দ্বিতীয়) ইনি প্রসিদ্ধ বিক্রমাদিত্যের বংশধর। প্রসিদ্ধ চীন-পর্যটক “হুয়েনৎসাং” ইহাঁর সহিত সাক্ষাৎ করিয়াছিলেন। তখন শ্রীহর্ষ-দেব সমস্ত উত্তর-ভারতের সার্ব্বভৌমিক সম্রাট ছিলেন। খুব সম্ভব, শ্রীহর্ষ দেবের সভা-কবি রত্নাবলী-রচয়িতা তখনকার রাজ-ঐশ্বর্য্য স্বচক্ষে দেখিয়াই বৎস রাজার “দস্ত-তোরণ”, “স্ফটিক-মণি-ভবন” প্রভৃতি স্থাপত্য-বৈভবের উল্লেখ করিয়াছেন।
এই নাটিকাটি পাঠ করিয়া অবগত হওয়া যায়, এখন যেরূপ