তেমন কিছু লাগে নাই বলিয়া, থামাইয়া রাখিয়াছেন। বিবি সাহেব ভোরে আসিবেন।
—বেশ কথা। আমার সামান্য লাগিয়াছে, চিন্তার কোন কারণ নাই।
—রাত্রে আমি হুজুরের কাছে থাকি?
—কোন আবশ্যক নাই। রাত্রে প্রয়োজন হইলে তোমাকে ডাকিব।
ভৃত্য বাহিরে অপর চাকরদের কাছে গেল। হানিফা আবার আসিয়া বলিল,—প্রয়োজন হইলে আমাদেরও ডাকিবে।
—আচ্ছা।
হনিফা ও দাসী চলিয়া গেল। পরদিন প্রত্যূষে নবীউল্লা ও দাউদের মাতা আসিলেন। আঘাতের তাড়সে ও রক্তস্রাবে দাউদের ঈষৎ জ্বরভাব হইয়াছিল। মাতা তাহার মাথায় হাত দিয়া বলিলেন,—বেটা, তোমার জ্বর হইয়াছে!
—ও কিছুই নয়, এখনি ছাড়িয়া যাইবে। তোমরা এত ভাবিতেছ কেন? আমার এমন কিছুই হয় নাই, দু’চার দিনে সারিয়া যাইবে।
—তুমি এখানে আসিয়াছিলে কেন? ছেলে দিব্য সুস্থ শরীর, হাসিয়া খেলিয়া বেড়াইতেছে, কোথা হইতে একটা পাগল তাহাকে ছুরি মারিয়া বসিল।
—নবীউল্লা বলিলেন, ও-কথায় কাজ নাই। ইহাতে কাহারও অপরাধ নাই।
—তা ত বুঝিলাম, কিন্তু আমার ছেলে এখানে কত দিন বিছানায় পড়িয়া থাকিবে? বাড়ীতে লইয়া গেলে আমি সর্ব্বদা উহার কাছে থাকিতে পারি।