—দু’চার দিনের মধ্যেই বাড়ী যাইবে। চিন্তার কোন কারণ নাই।
তাঁহারা কথা কহিতেছেন, এমন সময় দাসী আসিয়া সেলাম করিয়া, দাউদের মাতাকে কহিল,—বেগম সাহেবা, একবার অন্দর-মহলে যাইবেন না?
—যাইব বই কি, তোমার বিবি সাহেবের অনেক প্রশংসা শুনিয়াছি।
দাউদের মাতা দাসীর সঙ্গে ভিতরে গেলেন। পিতা-পুত্রে কথোপকথন হইতে লাগিল।
অনেকক্ষণ পরে দাউদের মাতা ফিরিয়া আসিলেন। হর্ষোৎফুল্ল আনন, চক্ষু আনন্দে উজ্জ্বল। স্বামীকে কহিলেন,—তুমি এখন বাড়ী যাও, আমি এবেলা এখানেই থাকিব, সন্ধ্যার সময় বাড়ী যাইব।
নবীউল্লা বলিলেন,—আহারাদির কি হইবে?
—ইহারা এখানে খাইতে না দেয়, উপবাসী থাকিব।
পর্দ্দার পিছনে চাপা হাসির অল্প শব্দ শুনা গেল। নবীউল্লা কিছু লজ্জিত হইয়া প্রস্থান করিলেন।
দাউদের মা বলিলেন, আমি এতক্ষণ হনিফার সঙ্গে গল্প করিতেছিলাম। খুব লজ্জাশীলা আর নরম প্রকৃতির মেয়ে। আর সুন্দরী ত বটেই, পরমা সুন্দরী। তোমার সঙ্গে কথা কহিল কেমন করিয়া?
—ওদের দেশে পর্দ্দা নাই জান ত? তবে সে গোরাটা না আসিলে আমার সঙ্গে আলাপ হইত না।
দাউদের মা হাসিতে লাগিলেন; বলিলেন,—তুই ত কিছু বলিস্ নাই, হনিফার কাছে সব শুনিলাম। ছেলে আমার রুস্তম। আরও শুনিলাম, ফিরোজকে ডাক্তার পাগলা গারদে পাঠাইয়া দিয়াছে।