বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:রথযাত্রা ও অন্যান্য গল্প - নগেন্দ্রনাথ গুপ্ত (১৯৩১).pdf/১০৬

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

যে দেশে পাখী নেই

 রাজপুত্ত্র, মন্ত্রিপুত্ত্র, আর সদাগরপুত্ত্র দেশভ্রমণে বেরিয়েচেন। তিন জনেরই পোষাক এক রকম, খুব জাঁকালও নয়, খুব খেলোও নয়। তিন জনের বয়স প্রায় সমান, তবে তিন জনে দেখতে তিন রকম। রাজপুত্ত্র দেখতে রাজপুত্ত্রের মত, বেশ দোহারা শরীর। মন্ত্রিপুত্ত্র রোগা, মুখ বেশ টিকল। সদাগরপুত্ত্র দেখতে সব চেয়ে ভাল, আর সদাই হাস্যমুখ। রাজপুত্ত্রের সঙ্গে একটা মস্ত কুকুর, মন্ত্রিপুত্ত্রের কিছু নেই, সদাগরপুত্ত্রের হাতে পিতলের খাঁচায় লাল মখমলের ঢাকা দেওয়া টিয়ে পাখী। পাখীর জন্য একটা সোনার দাঁড়ও আছে। পড়া পাখী, পথে যেতে যেতে অনেক নতুন কথা শিখেছে।

 তিন বন্ধু কত দেশ দেখলেন, কত নদী পার হ’লেন, কত দেশের কত কথা শুনলেন, কত বার কত বিপদ থেকে রক্ষা পেলেন। এই রকম যেতে যেতে এক নতুন দেশে উপস্থিত হ’লেন। সহরের চারদিকে বড় বড় বাগান, তাতে কত রকম ফুল-ফলের গাছ। তিন বন্ধুতে একটা বাগানের ভিতর গিয়ে একটা বড় গাছ তলায় বসলেন। সূর্য্য তখন অস্ত যায় যায়। বড় বড় গাছের ছায়া লম্বা হয়ে বন্ধুদের অনেক পিছনে পড়েছে। পুকুরের এক কোণে সূর্য্যের আলো ঝিকমিক করচে।

 মন্ত্রিপুত্ত্র বল্‌লেন,—তোমরা দু’জনে এখানে ব’স, আমি সহরের একটু দেখে এখনি ফিরে আসছি।

 রাজপুত্ত্র বল্‌লেন,—তুমি একা যাবে কেন? চল, তিন জনে একসঙ্গে যাওয়া যাক।