ঘুমুতে পারবে না। সকলে জিজ্ঞাসা করবে, কার কুকুর, তখন হৈ-হৈ হবে আর সব কথা বেরিয়ে পড়বে।
আবিদা বল্লে,—না, না, বেশ শান্ত কুকুর, এখানে এসে অবধি ডাকে নি।
রাজপুত্ত্র বল্লেন,—কুকুরের জন্য তোমরা ভেব না। রাত্রিতে আমাদের ঘরে থাকবে, একবারও ডাকবে না।
রান্নাবান্না হ’লে পর তিন বন্ধু নিজের ঘরে খেলেন। আবিদা তাঁদের খাবার নিয়ে এল। তাঁদের মুখে রান্নার সুখ্যাতি শুনে তার আহ্লাদ কত! তাঁদের খাওয়া হ’লে আবিদা বল্লে,—তোমাদের পাখীটি একবার দেখাবে না? কত দিন যে পাখী দেখিনি! রাত্তিরে ডাকে না ত?
সদাগরপুত্ত্র হেসে বল্লেন, একি পেঁচা, যে রাত্রে ডাকবে? এ পাখী রাত্তিরে ডাকে না।
খাঁচার ঢাকা খুলে সদাগরপুত্ত্র পাখী বের কল্লেন। বেশ বড় চন্দনা পাখী, মাথা টুকটুকে লাল, দুই দিকে ডানার পাশে লাল, ল্যাজ খুব লম্বা। তাকে হাতে বসিয়ে সদাগরপুত্ত্র মুখের কাছে তুলে ধরলেন। রাত্তিরে পাখী ভাল দেখতে পায় না, তবু সদাগরপুত্ত্রের গালে মাথা বুলোতে লাগল।
আবিদা দুই হাত একত্র ক’রে নিশ্বাস টেনে বল্লে, ও মা, কি সুন্দর পাখী! কেমন পোষ মেনেছে! আমি যদি ওর গায়ে হাত দি, তা হ’লে কি কাম্ড়াবে?
—দুষ্ট লোক না হ’লে কামড়ায় না। তুমি ওর গায়ে হাত দিয়ে দেখ!
এই ব’লে সদাগরপুত্ত্র পাখী সুদ্ধ হাত আবিদার দিকে বাড়িয়ে