বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:রথযাত্রা ও অন্যান্য গল্প - নগেন্দ্রনাথ গুপ্ত (১৯৩১).pdf/১১৫

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
যে দেশে পাখী নেই
১০৯

মত পাঁচ জন এই ঢাক বাজিয়ে আজ চাঁড়ালের হাতে যাবে। পাঁচটা কাঁচা মাথা আজ কাটা যাবে।

 —বটে? ব’লে সদাগরপুত্ত্র কাঠি পেড়ে ডঙ্কায় সজোরে তিন ঘা বসিয়ে দিলেন। সে-শব্দে রাজবাড়ী, হাট-বাজার কেঁপে উঠল।

 প্রহরী বল্‌লে,—ডঙ্কায় এক ঘা দেবার কথা, তুমি যে বড় তিনবার বাজালে? তোমার কি তিনটে মাথা আছে?

 —না হয় আমার মাথা তিনবার ক’রে কাটবে।

 রাজসভা থেকে আর চার পাঁচ জন প্রহরী ছুটে এল। বল্‌লে,—ডঙ্কা এতবার বাজায় কে?

 দরজার প্রহরী সদাগরপুত্ত্রকে দেখিয়ে দিয়ে বল্‌লে,—এই কোথাকার একটা পাড়াগেঁয়ে লোক আমাকে কোন কথা না বলেই তিনবার ডঙ্কা বাজিয়েছে।

 সদাগরপুত্ত্র নেহাত ভাল মানুষের মত বল্‌লে,—আমরা তিন বন্ধু কি না, তাই তিন ঘা!

 —চল রাজার হুজুরে।

 —সেই জন্যেই ত আমরা এসেছি।

 —তোমাদের সঙ্গে আবার একটা কুকুর দেখছি। রাজসভায় কুকুর নিয়ে যাবার হুকুম নেই।

 —আমরা যেখানে যাই, আমাদের কুকুরও যেখানে যায়। একটা কুকুর সশরীরে স্বর্গে গিয়েছিল, জান? আমাদের কুকুর রাজদরবারে যাবে, তাতে আর আশ্চর্য্য কি?

 — কী, আমাদের সঙ্গে তামাসা?

 —অত সাহস আমাদের হয়নি। কিন্তু কুকুর সঙ্গে না থাকলে আমরা রাজকন্যাকে হাসাতে পার্‌ব না। এ ত আর যে সে কুকুর নয়।