বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:রথযাত্রা ও অন্যান্য গল্প - নগেন্দ্রনাথ গুপ্ত (১৯৩১).pdf/১২২

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১১৬
রথযাত্রা ও অন্যান্য গল্প

 সদাগরপুত্ত্র রাজকন্যার চক্ষুর দিকে চেয়ে অঙ্গুলি চালনা করতে লাগলেন। সর্ব্বজ্ঞরা চেঁচিয়ে উঠলেন,—ওকি ও! অঙ্গুলি বা হস্ত চালনা কি রকম?

 সদাগরপুত্ত্র রাজাকে বল্‌লেন,—এ সময় যদি কেউ গোল করে কিম্বা আমাকে বাধা দেয়, তা হ’লে আমার চেষ্টা বৃথা হবে।

 রাজা চোখ পাকিয়ে সর্ব্বজ্ঞদের বল্‌লেন,—চুপ ক’রে থাক!

 রাজকন্যার দৃষ্টি স্থির হয়েছে দেখে সদাগরপুত্ত্র বল্‌লেন,—রাজকন্যে, আমি যা জিজ্ঞাসা কর্‌ব, তার উত্তর দিতে পার্‌বে?

 —পারব।

 —তোমার কি অপদেবতার দৃষ্টি লেগেছে?

 —না।

 —তবে তুমি কথা কও না কেন, হাস না কেন?

 —যে দেশে পাখী ডাকে না, সেখানে সব নিরানন্দ, কিসে আমার হাসি আসবে?

 —এ-দেশ থেকে কারা পাখী বিদায় ক’রে দিয়েছে?

 —ওই সর্ব্বজ্ঞ দু-জন। ওরা বলে, বধ আর বন্ধন ছাড়া পাখীর আর কোন দরকার নাই।

 —পাখী দেখলে তোমার আনন্দ হয়?

 —কার না হয়?

 —তুমি একটা পাখী পেলে কি কর?

 —পুষি আর তাকে পড়াতে শেখাই।

 সদাগরপুত্ত্র রাজাকে জিজ্ঞাসা কর্‌লেন, রাজবাড়ীতে পাখী নেই? রাজার মুখ শুকিয়ে গেল, বল্‌লেন,—কই, এখানে ত কোথাও পাখী নেই।