বিচারসভা শূন্য পড়িয়া আছে, বৃহৎ প্রবেশদ্বারে ঢাকে কেহ আঘাত করে না, শাস্ত্র-বিচারের সংবাদ নগরে আর ঘোষিত হয় না।
এমন সময় সংবাদ আসিল, একজন অদ্বিতীয় পণ্ডিত নগরের অভিমুখে আসিতেছেন, বিচার করিবেন। নগরবাসীরা উদ্গ্রীব হইয়া পণ্ডিতের আগমনের প্রতীক্ষা করিতে লাগিল। সর্ব্বত্র রাষ্ট্র হইয়া গেল, এমন পণ্ডিত কোথাও দেখিতে পাওয়া যায় না, পাণ্ডিত্যে যেমন অদ্বিতীয়, বিচারে তেমনি সুক্ষ্ম-যুক্তি। ইঁহার সমকক্ষ পণ্ডিত কোথায় পাওয়া যাইবে? সর্ব্বত্র এই জল্পনা হইতে লাগিল। রাজসভায় বড় পণ্ডিত কেহ ছিলেন না। রাজ-পণ্ডিত বৃদ্ধ, পুরুষানুক্রমে এই পদে অধিষ্ঠিত, পাণ্ডিত্যের কোন অভিমান ছিল না।
পণ্ডিত যখন নগরে প্রবেশ করিলেন, তখন সকলে একবাক্যে স্বীকার করিল যে, এমন পণ্ডিত কেহ কখন দেখে নাই। ঐন্দ্রজালিকের বিচিত্র বিদ্যা দেখিবার জন্য যেমন জনতা হয়, পণ্ডিতকে দেখিবার জন্য সেইরূপ লোক-সমাগম হইল। এমন পণ্ডিত কে কোথায় দেখিয়াছে? পণ্ডিতের সমুন্নত বিশাল দেহ, যেমন দীর্ঘ সেইরূপ স্থূল, বর্ণ শ্যাম, বৃহৎ মুখমণ্ডল শ্মশ্রুকেশে শোভিত, চক্ষের দৃষ্টি দাম্ভিকতাপূর্ণ। পণ্ডিতের হস্তে দীর্ঘ কাষ্ঠদণ্ড, প্রকাণ্ড উদর তাম্রনির্ম্মিত বর্ম্মে আবৃত, মস্তকের উপর উষ্ণীষ, তাহার উপর তাম্রাধারে মশাল জ্বলিতেছে! পণ্ডিত ধীর, গম্ভীর, দীর্ঘপদক্ষেপে শনৈঃ শনৈঃ বিচার-সভার দ্বারদেশে উপনীত হইয়া, ঢাকের কাঠি তুলিয়া তিন বার আঘাত করিলেন। নগরবাসীর শ্রবণে সে শব্দ বজ্রনির্ঘোষের ন্যায় শ্রুত হইল। অতঃপর পণ্ডিত সেইরূপ গজেন্দ্র-গমনে পান্থনিবাসে প্রবেশ করিলেন।
রাজার নিকট সংবাদ গেল, দিগ্বিজয়ী পণ্ডিত বিচার করিবার নিমিত্ত নগরে আগমন করিয়াছেন। বিচার-সভার দ্বারে ডঙ্কা বাজাইয়া