রাজা কহিলেন,—সে বিচারভার আমার উপর রহিল। যথার্থ পাণ্ডিত্যের প্রধান লক্ষণ বিনয়, আপনাতে তাহা বর্ত্তমান।
শ্রমণ কহিলেন,—মহারাজ! আপনার নিকট একটি প্রার্থনা আছে।
—আপনি বলিবার পূর্ব্বেই তাহা পূর্ণ হইল।
—যদি ভগবান্ বুদ্ধদেবের কৃপায় বিচারে আমি পরাজিত না হই, তাহা হইলে কর্ণসুবর্ণ নগরের বাহিরে ভিক্ষু-শ্রমণের বাসের উপযোগী একটি সঙ্ঘারাম নির্ম্মাণ করিয়া দিবেন।
—আমি সানন্দে স্বীকৃত হইলাম। ধর্ম্মযাজকদিগের বাসস্থান নির্ম্মাণ করাইয়া স্বয়ং কৃতার্থ হইব।
শ্রমণ দ্বিরুক্তি না করিয়া মহারাজার সঙ্গে নগরে আগমন করিলেন।
ওদিকে দিগ্বিজয়ী পণ্ডিত প্রতিদিন একবার করিয়া বিচারসভার সম্মুখে ডঙ্কা মারিয়া যান। আর বলেন, এ দেশের এত নাম, কিন্তু এমন একজন পণ্ডিত নাই যে, আমার সঙ্গে বিচার করিতে সাহস করে। সপ্তম দিবসে যখন ঢাকে ঘা মারিলেন, সেই সময় রাজপণ্ডিত সেখানে দাঁড়াইয়াছিলেন। কহিলেন,—প্রাতঃপ্রণাম!
পণ্ডিত তাঁহার প্রতি অবহেলাসুচক দৃষ্টিপাত করিয়া কহিলেন,—প্রণাম। আপনি কে?
—আমি রাজসভায় পণ্ডিতের পদে নিযুক্ত। পদ আছে বটে, কিন্তু পাণ্ডিত্য কিছুমাত্র নাই।
—তাহা ত দেখিতেই পাইতেছি। সপ্তাহকাল প্রতিদিন আমি এখানে পণ্ডিতদিগকে শাস্ত্রবিচারে আহ্বান করিতেছি, আজ পর্য্যন্ত কাহারো দেখা নাই।
—এ অনুযোগ আপনি করিতে পারেন। এখন আপনি নিশ্চিন্ত