—পণ্ডিতের বুদ্ধি হারাইয়াছে, তাহাই খুঁজিয়া বেড়ায়।
—বিচারের গোলকধাঁধায় পড়িলে পথ খুঁজিয়া বাহির করিবে।
—আর পেটে কি বাঁধা?
—ওটা পাঁচিল গাঁথা। লম্বোদর যদি বাড়িতে বাড়িতে ভূমিতে লুটাইয়া পড়ে? দুর্গের যেমন প্রাচীর, উহাও তেমনি উদরের প্রাচীর।
পর দিবস প্রত্যূষ হইতেই নগরবাসীরা সভায় ছুটিল। রাজবাটীর কর্ম্মচারীরা সকলকে বসাইয়া দিল। সভার ভিতর যখন আর স্থান রহিল না লোকেরা দ্বারদেশে দাঁড়াইয়া রহিল। স্ত্রীলোকেরা এমন স্থানে কখন আসে না, আজ তাহারা পণ্ডিতকে দেখিবার জন্য সারি দিয়া দাঁড়াইয়াছে।
রথে অশ্বারোহণে রাজবংশীয়েরা ও শ্রেষ্ঠিগণ আসিতে লাগিলেন। সভাদ্বারে তূর্য্যধ্বনি হইল—রাজা আসিতেছেন। কৌতূহল সম্বরণ করিতে না পারিয়া তাঁহার সহিত রাণীও আসিয়াছেন। সভা পরিপূর্ণ, সকলের দৃষ্টি দ্বারদেশে, সকলে পণ্ডিতদ্বয়ের আগমন অপেক্ষা করিতেছে।
পথে যাহারা দাঁড়াইয়াছিল তাহারা দেখিল, মহাকায় মাতঙ্গের মত রাজপথের মধ্যস্থল দিয়া পণ্ডিত আসিতেছেন। হন্তে দণ্ডকাষ্ঠ, মস্তকে মশাল, উদরে বর্ম্ম। সাটোপ পদক্ষেপ, চারিদিকে গর্ব্বিত দৃষ্টি। থাকিয়া থাকিয়া গম্ভীর কণ্ঠে বলিতেছেন, সোঽহং! তত্ত্বমসি! সভাদ্বারে উপনীত হইলে আবার তূর্য্যধ্বনি হইল। রাজপণ্ডিত, রাজকর্ম্মচারিগণ সসম্ভ্রমে পণ্ডিতকে প্রত্যুদ্গমন পূর্ব্বক তাঁহাকে নির্দ্দিষ্ট স্থানে উপবেশন করাইলেন।
সকলের শেষে শ্রমণ আসিলেন। মধ্যাকৃতি, শীর্ণ দেহ, উজ্জ্বল কান্তি, মুণ্ডিত কেশ, মুণ্ডিতমুখ, অঙ্গে ভিক্ষুর পীত কাষায় বসন। পথের এক পার্শ্ব দিয়া অবনত মস্তকে, কোনদিকে দৃষ্টিপাত না করিয়া