এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১২৮
রথযাত্রা ও অন্যান্য গল্প
—তুমি বলিতে কাহাকে বুঝাইবে? তুমি কে?
—দেব।
—দেব কাহাকে বলিতেছ?
—আমাকে।
নিজের ঘূর্ণাবর্ত্তে পণ্ডিতকে মজ্জমান দেখিয়া সভাসুদ্ধ লোক হাসিয়া অস্থির হইল। পণ্ডিত পরাস্ত হইলেন। রাজা স্বয়ং উঠিয়া শ্রমণ দেবধরের গায় জয়মাল্য পরাইয়া দিলেন। বাহিরে রাজবাদ্য বাজিয়া উঠিল। শ্রণের ললাটে রাণী বিজয়তিলক দিলেন। রাজা নিজের রথে শ্রমণকে আরোহণ করাইয়া রাজবাটীতে লইয়া গেলেন।
সভার বাহিরে আসিয়া পণ্ডিত দীপঙ্কর মস্তকের পাত্রাধার ও মশাল এবং অঙ্গের বর্ম্ম দূরে নিক্ষেপ করিলেন। তিনি নগর হইতে নিষ্ক্রান্ত হইয়া কোথায় গেলেন, কেহ জানিতে পারিল না। লোকালয়ে আর ফিরিলেন না।
অঙ্গীকার পূর্ণ করিয়া রাজা নগরের বাহিরে উদ্যান, তড়াগশোভিত বৃহৎ মনোরম সঙ্ঘারাম নির্ম্মাণ করিয়া দিলেন। সঙ্ঘারামের নামকরণ হইল রক্তবীথি। সেখানে এক সহস্র ভিক্ষু ও শ্রমণ বাস করিতেন।