—২—
একদিন বৈকাল বেলা নসীর খাঁ মোটরে করিয়া একটা বড় সহরে উপস্থিত হইলেন। সহর তাঁহার বাড়ী হইতে প্রায় ত্রিশ ক্রোশ। সহরের বড় রাস্তার উপর একট বড় বাড়ীর সম্মুখে মোটর দাঁড়াইল। মোটরচালককে তাঁহার জন্য অপেক্ষা করিতে বলিয়া নসীর খাঁ বাড়ীর ভিতর প্রবেশ করিলেন।
বসতবাড়ী নয়, একজন বড় মহাজনের কুঠি। দোতালায় উঠিয় নসীর খাঁ দেখিলেন, একটা বড় ঘরে মেঝের উপর তাকিয়া ঠেসান দিয়া একজন প্রৌঢ়বয়স্ক ব্যক্তি বসিয়া আছে, মাথায় পাগ্ড়ী, কপালে ফোঁটা। ইনি গদিওয়ালা মহাজন বংশীলাল আগরওয়ালা। সামনে একটা কাঠের বড় বাক্স, পাশে হিসাবের খাতাপত্র। নসীর খাঁকে দেখিয়া বলিলেন,—আসুন খাঁসাহেব, বসুন।
নসীর খাঁ বলিলেন,—শেঠ-সাহেব, মিজাজ ভাল ত?
বংশীলাল বলিলেন,—আপনার অনুগ্রহ।
নসীর খাঁ জুতা খুলিয়া বসিলেন। মহাজন জিজ্ঞাসা করিলেন,—কি হুকুম?
—একটা হুণ্ডি আছে।
—কই, দেখি, বলিয়া বংশীলাল হাত বাড়াইলেন।
শেরওয়ানীর পকেট হইতে নসীর খাঁ হুণ্ডি বাহির করিয়া দিলেন। বংশীলাল চক্ষে চসমা দিয়া হুণ্ডি ভাল করিয়া দেখিলেন। কহিলেন,—৫০০৲ টাকা। নোট, না রোক দিব?
—ছোট নোট হইলেই চলিবে।
বংশীলাল বাক্স খুলিয়া ১০০৲ টাকা করিয়া ১০৲ টাকার নোটের