পাঁচখানি তাড়া বাহির করিয়া গণিয়া দিলেন। নসীর খাঁ শেরওয়ানীর নীচে মেরজাইয়ের পকেটে নোটের তাড়া পূরিলেন।
বংশীলাল একবার এদিক ওদিক দেখিলেন, ঘরে বা সম্মুখে আর কোনো লোক ছিল না। গলা নীচু করিয়া কহিলেন,—আপনার নামে একখানা চিঠি আছে।
বড় বাক্সের ভিতর আর একটি ছোট ইস্পাতের ক্যাস-বাক্স ছিল। বংশীলাল কোমরের ঘুনসী হইতে একটি ছোট চাবি লইয়া বাক্স খুলিলেন। তাহার ভিতর হইতে শিলমোহর করা একখানি চিঠি নসীর খাঁর হাতে দিলেন। চিঠি খুলিয়া পড়িয়া নসীর খাঁ কহিলেন,—ইনি কয়দিন আসিয়াছেন? আমাকে সাক্ষাৎ করিতে লিখিয়াছেন। কোন্ বাড়ীতে তাঁহার দেখা পাইব?
—দুই দিন হইল আসিয়াছেন। আপনাকে প্রকাশ্যভাবে যাইতে নিষেধ করিয়াছেন। আমি আপনাকে সঙ্গে করিয়া লইয়া যাইব। আপনার মোটর আছে?
—আছে।
—মোটর এখানেই থাকুক। আমরা হাঁটিয়া যাইব।
—বেশ, চলুন।
বংশীলাল নসীর খাঁকে সঙ্গে করিয়া একটা ছোট ঘরে লইয়া গেলেন। সে-ঘরে কাপড়চোপড় থাকিত। নসীর খাঁকে বসাইয়া বংশীলাল বাহিরে আসিয়া ডাকিলেন,—মেহেতা জী!
মেহেতা জী নিজের ঘর হইতে হিসাবপত্র রাখিয়া দিয়া উঠিয়া আসিলেন। বংশীলাল কহিলেন,—আমি একবার বাহিরে যাইতেছি। আপনি আমার বাক্স ও খাতাপত্র তুলিয়া রাখুন।
—যে আজ্ঞা।