সম্মুখে উপস্থিত হইলেন। বাড়ীর সদর দরজা বন্ধ, সম্মুখের অপর দরজা জানালাও বন্ধ। বংশীলাল দরজায় করাঘাত করাতে ভিতর হইতে একজন দরজা অল্প খুলিয়া জিজ্ঞাসা করিল, কে?
—বংশীলাল আগরওয়ালা।
ভিতর হইতে আর একজন বলিল,—দরজা খুলিয়া দাও।
দরজা খুলিতে বংশীলাল ও নসীর খাঁ দেখিলেন, চারজন লোক সশস্ত্র হইয়া দাঁড়াইয়া আছে, একজনের হাতে ভরা পিস্তল আর এক জনের হাতে খোলা তলওয়ার। তাহাদের পাশে আর একজন নিরস্ত্র ব্যক্তি দাঁড়াইয়া আছে, সে এই দরজা খুলিতে বলিয়াছিল। বংশীলাল, নসীর খাঁ ও তাঁহাদের সঙ্গের দুইজন লোক ভিতরে প্রবেশ করিতেই একজন দরজা বন্ধ করিয়া দিল।
নিরস্ত্র ব্যক্তি বংশীলাল ও নসীর খাঁকে বলিল,—আপনারা আমার সঙ্গে আসুন।
দোতালার উপরে কয়েকটা ঘর পার হইয়া তাঁহারা একটা ঘরের দরজায় উপস্থিত হইলেন। সেখানেও একজন প্রহরী। তাঁহাদিগকে দেখিয়া সে পথ ছাড়িয়া দিল।
ঘরের ভিতর একটা টেবিলের সম্মুখে দুইজন লোক বসিয়া। একজনের বয়স পঞ্চাশ হইবে আর একজন তরুণ বয়স্ক, কুড়ি বাইশ বৎসরের অধিক নয়। দুই জনকে দেখিলেই মনে হয় যে, ইঁহারা বিশেষ সম্ভ্রান্তবংশীয়। যাঁহার বয়স অধিক তাঁহার চুল কিছু পাকিয়াছে, ললাট প্রশস্ত, চক্ষু আয়ত ও অত্যন্ত উজ্জ্বল। বর্ণ গৌর, আকৃতি কিছু দীর্ঘ, শরীর কৃশ কিন্তু দুর্ব্বল নয়, মুখের ভাব গম্ভীর। যুবক অনেকটা তাঁহারই মত দেখিতে, অত্যন্ত সুপুরুষ, মুখের ভাব অতি নম্র।
বংশীলাল ও নসীর খাঁকে দেখিয়া প্রৌঢ় ব্যক্তি আসন ত্যাগ