শাহ সুলেমান উঠিয়া বংশীলাল ও নসীর খাঁকে বলিলেন,—তোমরা একবার আমার সঙ্গে আইস।
পাশের ঘরে গিয়া শাহ সুলেমান তাঁহাদিগকে দেখাইলেন ঘরে বাক্স, সিন্দুক, সমস্ত খোলা পড়িয়া আছে, জিনিষপত্র চারিদিকে ছড়ান। আর এক ঘরেও সেইরূপ।
শাহ সুলেমান বলিলেন,—আমরা এখানে দুই দিন হইল আসিয়াছি, কিন্তু ইহারই মধ্যে কাল রাত্রে কখন কে আমাদের ঘরে প্রবেশ করিয়া সমস্ত বাক্স-পেটরা ভাঙিয়া তচনচ করিয়াছে, অথচ কিছু চুরি হয় নাই। সাধারণ চোরের কাজ নয় বুঝিতেই পারিতেছ। যাহা খুঁজিতে আসিয়াছিল তাহা পায় নাই। বাড়ীতে লোকজন, পাহারা, কিন্তু কখন ঘরে লোক আসিয়াছিল কেহ জানিতে পারে নাই।
বংশীলাল বলিলেন,—আপনার লোক কি সব বিশ্বাসী?
—আমার লোকেরা পুরুষানুক্রমে আমাদের বংশে কাজ করিয়া আসিতেছে। ইহাদের মধ্যে কেহ অবিশ্বাসী হইলে কত কাল পূর্ব্বে চুরি হইয়া যাইত। কি চুরি করিতে আসিয়াছিল তোমরা জান ত?
বংশীলাল বলিলেন,—কিছু কাগজপত্র আছে জানি।
নসীর খাঁ বলিলেন,—একটা প্রাচীন শিলমোহরও আছে।
শাহ সুলেমান বলিলেন,—আছে তিনটি জিনিষ। সেই তিনটি জিনিষ না থাকিলে কেহ এ রাজ্য নিশ্চিন্ত হইয়া ভোগ করিতে পারিত না। যাহারা আমাদিগকে বলপূর্ব্বক শঠতা করিয়া তাড়াইয়া দিয়াছে, সেই তিনটি সামগ্রী না পাইলে তাহারা শীঘ্রই রাজ্যচ্যুত হইবে। এ সকল রাজ্য শাহান শাহ মোবারক শাহের অধীন, তোমরা সকলেই জান। বৎসরে একবার করিয়া আমাদিগকে তাঁহার রাজধানীতে