বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:রথযাত্রা ও অন্যান্য গল্প - নগেন্দ্রনাথ গুপ্ত (১৯৩১).pdf/১৫১

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
নিষ্কণ্টক
১৪৫

সিকন্দর শাহের হাত ধরিতে গেলেন, কিন্তু সিকন্দর শাহ হাসিতে লাগিলেন। রুস্তম তাঁহার মুখের দিকে চাহিয়া তাঁহার পায়ের কাছে লুটাইয়া পড়িল।

 নসীর খাঁ বলিলেন,—ইহারা অপরিচিত কোনো লোককে কাছে আসিতে দেয় না। কুকুর বশ করিবার আপনার অদ্ভুত ক্ষমতা আছে।

 সিকন্দর শাহ বলিলেন,—আমি কুকুর ভালবাসি। ইহারা থাকিতে আপনার পাহারার প্রয়োজন কি?

 —সকল রাত্রে ইহাদিগকে খুলি না, কিন্তু এখন ইহাদের দরকার। দশজন অস্ত্রধারী সিপাহী অপেক্ষা রাত্রিকালে ইহাদের উপর ভরসা অধিক। ইহারা বড় একটা ডাকে না, যাহাকে ধরে তাহাকে প্রাণেও মারে না, মানুষ ধরিয়া তাহার পর সাড়া দেয়।

 নসীর খাঁ কুকুর চারিটা খুলিয়া দিলেন। তাহারা নিঃশব্দে তাঁহাদের পিছনে পিছনে চলিল। নসীর খাঁ ও সিকন্দর শাহ বাড়ীর চারিদিকে ঘুরিলেন, লোকজনকে সতর্ক থাকিতে বলিলেন। বাড়ীতে প্রবেশ করিবার সময় রুস্তমকে ভিতরে ডাকিয়া দরজা বন্ধ করিলেন, বলিলেন,—রুস্তম, তুমি আজ আমাদিগকে পাহারা দিবে।

 রুস্তম একবার ল্যাজ নাড়িয়া নসীর খাঁর শয়ন কক্ষের দ্বারদেশে গিয়া বসিল।

 সেই ঘরে সিকন্দর শাহেরও শয্যা পাতা হইয়াছিল। ঘরে প্রবেশ করিয়া নসীর খাঁ কহিলেন,—আমরা এখানে শয়ন করিব না, সাধ্যমত আমাদিগকে সাবধানে থাকিতে হইবে।

 দুইটি শয্যায় বালিশ ও বিছানা নসীর খাঁ এরূপভাবে সাজাইলেন যেন দুইটি লোক শুইয়া আছে। সেই ঘরের ভিতর দিয়া আর একটি