বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:রথযাত্রা ও অন্যান্য গল্প - নগেন্দ্রনাথ গুপ্ত (১৯৩১).pdf/১৫৯

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
নিষ্কণ্টক
১৫৩

 সিকন্দর শাহ এঞ্জিন চালাইয়া বোটের হাল ধরিলেন। নসীর খা তাঁহার সম্মুখে বসিলেন। নৌকায় গদি পাতা, মাঝখানে একটি ছোট কামরা, তাহার ভিতর দুইজন লোক আরামে বসিতে ও শুইতে পারে।

 নদীর স্রোত একটানা, জলের প্রবাহ তীব্র। প্রশস্ত গভীর নদী, পর পারে চাষের জমি, কাছাকাছি নৌকা ও লোকজন নাই। সিকন্দর শাহ বোটের মুখ ফিরাইয়া উজানে চলিলেন। বোট জল কাটিয়া আশে পাশে ঢেউ ও ফেনা তুলিয়া তীরের মত চলিল।

 মাঝে মাঝে কোথাও নদীর ধারে বাড়ী, বাড়ীর লোকেরা বোটের শব্দ শুনিয়া চাহিয়া দেখিতেছে। এ ধারে চাষবাস নাই, যেখানে বাড়ী নাই সেখানে হয় উপবন, না হয় জঙ্গল।

 সিকন্দর শাহ একহাতে হাল ধরিয়া আর এক হাত মাঝে মাঝে জলে ডুবাইতেছিলেন। জলপথে তাঁহার আলস্যের আবেশ হইতেছিল। নসীর খাঁ গদি ঠেসান দিয়া পা ছড়াইয়া ওপারে চাষীদের চাষ করা দেখিতেছিলেন।

 সিকন্দর শাহ বলিলেন,—কাছাকাছি দেখিবার মতন কিছু আছে?

 —কিছু দূরে লালবিবির কবর আছে। চলুন দেখিতে যাওয়া যাক্।

 আর কোনো কথা হইল না, বোট সশব্দে জল তোলপাড় করিয়া চলিতে লাগিল।

 কিছুক্ষণ পরে নসীর খাঁ কহিলেন,—এই বার কিনারায় লাগান।

 সিকন্দর শাহ বোটের বেগ সংযত করিয়া নিকটেই প্রাচীন ঘাট দেখিতে পাইয়া তাহার পাশে বোট লাগাইলেন। নসীর খাঁ কল বন্ধ করিয়া তাহাতে চাবি দিলেন।