সিকন্দর শাহ কাহাকেও কোনো কথা জিজ্ঞাসা করেন নাই। রমণী কে, তাহা নসীর খাঁ না জানিতে পারেন, কিন্তু বাড়ী কাহার, কে সেখানে বাস করে তাহা নিঃসন্দেহ জানিতেন। সিকন্দর শাহ তাঁহাকে কিংবা বাড়ীর অপর কোনো লোককে কোনো কথাই জিজ্ঞাসা করেন নাই। যথার্থ পক্ষে গোপন করিবার কিছুই ছিল না অথচ সিকন্দর শাহের বিবেচনায় তৃতীয় ব্যক্তিকেও কোনো কথা বলা যায় না।
নদীর ধার দিয়া সিকন্দর শাহ যে বাড়ীতে রমণীকে দেখিয়াছিলেন সেইদিকে গমন করিলেন। রুস্তম কুকুর তাঁহার সঙ্গে ছিল। সেই বাড়ীর নিকট উপনীত হইয়া কাহাকেও দেখিতে পাইলেন না। নীচেকার দরজা জানালা বন্ধ, দেখিয়া মনে হয় সে বাড়ীতে কাহারও বাস নাই। সিকন্দর শাহ ভাবিতেছিলেন যদি কোনো লোকের সঙ্গে দেখা হয় তাহা হইলে জিজ্ঞাসা করিলে তিনি কি বলিবেন? কিন্তু কোথাও জনমনুষ্য দেখিতে পাইলেন না। যে গবাক্ষের সম্মুখে রমণী দাঁড়াইয়া ছিল সিকন্দর শাহ সেদিকে চাহিয়া দেখিলেন, জানালা বন্ধ। সেটা বাড়ীর পশ্চাৎ ভাগ, বাড়ীতে প্রবেশ করিবার দরজা অন্যদিকে। কিয়ৎকাল অপেক্ষা করিয়া কিছু নিরাশ হইয়া সিকন্দর শাহ ফিরিবার উপক্রম করিতেছেন এমন সময় সেই গবাক্ষ ধীরে ধীরে উন্মুক্ত হইল। গবাক্ষপথে অঙ্কিত চিত্রের ন্যায় দাঁড়াইয়া সেই রমণীমূর্ত্তি!
সিকন্দর শাহ নির্ণিমেষনয়নে সেই রূপের প্রতিমূর্ত্তি দেখিতে লাগিলেন। আলুলায়িতকুন্তলা, কুঞ্চিত দীর্ঘ কেশ পৃষ্ঠে বক্ষে পড়িয়াছে, অনিন্দিত আনন বেষ্টন করিয়াছে। আয়ত চক্ষের অলস দৃষ্টি সিকন্দর সাহের মুখের দিকে। আবার চক্ষে চক্ষে মিলিল, আবার সুন্দরী বিকচ কমলের ন্যায় স্মেরমুখী, ঈষন্মুক্ত ওষ্ঠাধরের মধ্যে মুক্তাপঙ্ক্তির ঈষৎ বিকাশ। দৃষ্টির তরলতায় অপূর্ব্ব মোহিনী।