বেশ কিছু শিথিল, মস্তকের ওড়না সরিয়া গিয়াছে, কণ্ঠ অনাবৃত। গবাক্ষ হইতে অল্প মুখ বাড়াইয়া রমণী দক্ষিণ হস্ত জানালার উপর রাখিল। কোমল চম্পক অঙ্গুলি, অর্দ্ধেক বাহু, দেখা যাইতেছে। মসৃণ, ললাম, বলয়িত বাহু সর্ব্বাঙ্গে স্তরে স্তরে লাবণ্য পুঞ্জীকৃত, রূপের পূর্ণতায় অলক্ষ্যে তরঙ্গায়িত হইতেছে। সিকন্দর শাহের চক্ষু নমিত হইল।
আবার তিনি উর্দ্ধমুখ হইয়া রমণীকে চাহিয়া দেখিলেন। মুখের হাসি আর একটু ফুটিয়াছে, চক্ষের আকর্ষণী আর একটু প্রবল। ধীরে ধীরে রমণী বক্ষের বস্ত্রের ভিতর হইতে একখণ্ড কাগজ বাহির করিয়া অঙ্গুলি হইতে একটি অঙ্গুরী বাহির করিয়া সেই কাগজে জড়াইয়া সিকন্দর শাহের পায়ের কাছে ফেলিয়া দিল।
সিকন্দর সাহ তুলিয়া লইয়া পড়িলেন—আজ সন্ধ্যার পর শিরীষ গাছের তলায়।
সিকন্দর শাহ উপরে চাহিলেন। রমণী অঙ্গুলি দিয়া বৃক্ষ নির্দ্দেশ করিয়া দিল। বাগানের একপাশে একটা বড় শিরীষ গাছ, তাহাতে ফুল ভরিয়া আছে, তাহার আশেপাশে ছোট ছোট গাছপালায় অন্ধকার।
আংটী, সোনার সিল আংটী, কোনো অক্ষর বা নাম নাই। সিকন্দর শাহ আংটী তুলিয়া ধরিলেন। রমণী হাত দিয়া সঙ্কেত করিল, এখন থাকুক।
রমণী মস্তক অবনত করিয়া বিদায় জ্ঞাপন করিল। তাহার পর ধীরে ধীরে, অঙ্গুলিসঙ্কেতে সিকন্দর শাহকে আকুলিত করিয়া, অর্দ্ধনিমীলিত চক্ষের আমন্ত্রণে তাঁহাকে জর্জ্জরিত করিয়া, ধীরে ধীরে গবাক্ষ রুদ্ধ করিল।