সিকন্দর শাহ গৃহের অভিমুখে ফিরিলেন, এক হস্তে অভিসারিকার নিমন্ত্রণ, অপর হস্তে অঙ্গুরীয় নিদর্শন!
—১০—
সেইদিন বৈকালে দুইখানা মোটর করিয়া সুলেমান শাহ ও বংশীলাল নসীর খাঁর বাড়ীতে আসিলেন। তাঁহাদের সঙ্গে ছয়জন লোক, সকলেই সশস্ত্র হইয়া আসিয়াছেন।
নসীর খাঁ সসম্ভ্রমে সুলেমান শাহকে অভিবাদন করিয়া কহিলেন, আপনি কৃপা করিয়া আমার গৃহে আগমন করিয়াছেন আমার পরম সৌভাগ্য।
সুলেমান শাহ নসীর খাঁর পৃষ্ঠে হস্ত দিয়া কহিলেন,—আমি আমার কথা-মত আসিয়াছি। তোমার কুকুর দেখাও।
সুলেমান শাহ সিকন্দর শাহের প্রতি দৃষ্টিপাত করিয়া কহিলেন, তোমাকে বেশ ভাল দেখিতেছি। আজ আমার সঙ্গে ফিরিয়া যাইবে কি?
সিকন্দর শাহের চক্ষু উজ্জ্বল, মুখ উৎফুল্ল। ফিরিয়া যাইবার কথা শুনিতেই তাঁহার মুখ ম্লান হইয়া গেল। অত্যন্ত আগ্রহের সহিত কহিলেন,—যদি কোনো বিশেষ প্রয়োজন না থাকে তাহা হইলে আরও দিন-কয়েক এখানে থাকিবার অনুমতি প্রার্থনা করি।
নসীর খাঁ হাসিয়া বলিলেন,—উনি নৌকায় ভ্রমণ করিতে ভালবাসেন, আজই একবার গিয়াছিলেন।
সুলেমান শাহ কিছু উদ্বেগের সহিত জিজ্ঞাসা করিলেন,—কোনো আশঙ্কা নাই? জলে শত্রু-ভয় নাই?