—কিছুমাত্র না। আমার মোটর-বোট, কাছাকাছির মধ্যে আর কাহারও, ওরকম নৌকা নাই। কোনো নৌকা আমার বোটকে ধরিতে পারে না।
সিকন্দর শাহ সুযোগ পাইয়া বলিলেন—নদীতে বেড়াইলে শরীর ভাল থাকে, আমি প্রতিদিন বোটে বেড়াইব।
সুলেমান শাহ হাসিয়া উঠিলেন, বলিলেন,—তোমার কোনো চিন্তা নাই, আমি তোমাকে বলপূর্ব্বক লইয়া যাইব না, তোমার যতদিন ইচ্ছা এখানে থাক।
সিকন্দর শাহের মুখ আবার আনন্দে সমুজ্জ্বল হইয়া উঠিল, যুক্তকরে পিতৃব্যকে কৃতজ্ঞতা জানাইলেন।
নসীর খাঁ কহিলেন, আমার একটি নিবেদন আছে, অনুমতি হইলে জানাইতে পারি।
সুলেমান শাহ কহিলেন,—স্বচ্ছন্দে বল, সঙ্কোচ কিসের?
—যদি কপা করিয়া রাত্রে এখানে আহার করেন—
—এই কথা! তোমার গৃহে আহার করিব ইহা ত অনন্দের কথা।
নসীর খাঁ বংশীলালের দিকে ফিরিলেন, কহিলেন,—শেঠ-সাহেব, আপনাকে কি বলিব?
বংশীলাল কহিলেন,—আপনার কুণ্ঠিত হইবার কোনো কারণ নাই, আমি আহার করিয়া আসিয়াছি। আমাদের রাত্রিকালে আহার করা নিষিদ্ধ।
নসীর খাঁ সুলেমান শাহকে বলিলেন,—কুকুরগুলা এইখানে আনিতে বলিব?
—না, না, চল, আমরা গিয়া দেখিব।