যুবতী আবার হাসিয়া সিকন্দর শাহের স্কন্ধে হস্তার্পণ করিল, বলিল,—আর এখন?
—এখন আমি তোমার রূপে মুগ্ধ হইয়াছি, একমাত্র তোমার শাসন মানি।
—আমি কে, তাহা ত তুমি জান না, অপরিচিতার সহিত গোপনে সাক্ষাৎ করিয়াছ।
—তোমার রূপই তোমার পরিচয়। অপর পরিচয় দেওয়া-না-দেওয়া তোমার ইচ্ছা।
—তোমার পরিচয় জিজ্ঞাসা করিব? না, বিনা পরিচয়ে আমাদের সম্ভাষণ হইবে?
—তাহাও তোমার ইচ্ছা। আমাকে যাহা জিজ্ঞাসা করিবে আমি উত্তর দিতে প্রস্তুত।
—যুবরাজ সিকন্দর শাহকে কে না জানে? বলিয়া রমণী সিকন্দর শাহের কণ্ঠলগ্ন হইল।
যুবতীর পশ্চাতে শুষ্কপত্রে পদশব্দ হইল। সিকন্দর শাহ তাহার স্কন্ধের পার্শ্ব দিয়া দেখিলেন, একব্যক্তি দ্রুতপদক্ষেপে তাঁহাদের অভিমুখে আসিতেছে, নক্ষত্রালোকে তাহার হাতের ছুরি একবার ঝলসিত হইল।
রমণীও মুখ ফিরাইয়া দেখিতে পাইল, ভীত উৎকণ্ঠিত হইয়া কহিল,—ইঁহাকে আঘাত করিতে পাইবে না, আঘাত করিবার কোনো কথা হয় নাই।
সে-ব্যক্তি দন্তে দন্ত নিষ্পেষিত করিয়া অনুচ্চ কঠোরস্বরে কহিল,—তুমি উহাকে ছাড়িয়া দাও। তোমার কর্ম্ম তুমি করিয়াছ, আমার প্রতি যেমন আদেশ হইয়াছে আমি পালন করিব।
সিকন্দর শাহ রমণীর বাহুবন্ধন হইতে আপনাকে মুক্ত করিবার