বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:রথযাত্রা ও অন্যান্য গল্প - নগেন্দ্রনাথ গুপ্ত (১৯৩১).pdf/১৭৪

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১৬৮
রথযাত্রা ও অন্যান্য গল্প

 নসীর খাঁ একটা টানা খুলিয়া কয়েকটা বিদ্যুতের পকেট-মশাল বাহির করিয়া সুলেমান শাহ, বংশীলাল ও অপর লোকের হাতে দিলেন, একটা নিজে লইলেন। সকলের কাছে অস্ত্র ছিল।

 বাড়ীর বাহিরে তাঁহারা আসিয়া দেখিলেন, মোটরচালক ও অপর ভৃত্যেরা জড় হইয়াছে। কুকুর তিনটাও সেই সঙ্গে আসিয়াছে।

 নসীর খাঁ জিজ্ঞাসা করিলেন,—সিকন্দর শাহকে তোমরা বাগানে বেড়াইতে কিংবা ফটকের বাহিরে যাইতে দেখিয়াছ?

 সিকন্দর শাহকে কেহই দেখে নাই।

 সকলে নদীতীরের অভিমুখে ধাবিত হইলেন। অকস্মাৎ পুরুষকণ্ঠের আর্ত্তনাদ ও তাহার পরেই নারী-কণ্ঠের চীৎকার শ্রুত হইল। মুহূর্ত্তকাল পরেই কুকুরের গম্ভীর ডাক। নসীর খাঁ বলিলেন—রুস্তম! আর তিনটা কুকুর রুস্তমের গলা শুনিয়া তীরের মত সেইদিকে ছুটিয়া গেল। নসীর খাঁ ও আর সকলে সেই দিকে ধাবমান হইলেন। সুলেমান শাহ তরুণ বয়স্ক না হইলেও যুবকের ন্যায় বেগে চলিলেন।

 চারিদিক প্রতিধ্বনিত করিয়া পিস্তলের আওয়াজ হইল। নসীর খাঁ আর সকলকে ছাড়াইয়া আগে ছুটিলেন, তাঁহার পরেই সুলেমান শাহ। আর সকলে ঠিক তাঁহাদের পশ্চাতে, কেবল বংশীলাল মোটা বলিয়া কিছু পিছাইয়া পড়িয়াছিলেন। নসীর খাঁ হাঁকিলেন,—যুবরাজ, আপনি কোথায়?

 শিরীষ গাছের তলা হইতে সিকন্দর শাহ উচ্চকণ্ঠে বলিলেন,—এই দিকে! এই দিকে!

 নসীর খাঁর বাম হস্তে মশাল ছিল, কল টিপিতেই আলোক জ্বলিয়া উঠিল। দক্ষিণ হস্তে পিস্তল। তাঁহার দেখাদেখি আর সকলে মশাল জ্বালিল। উজ্জ্বল আলোকে চারিদিক স্পষ্ট দেখা যাইতে লাগিল।