নসীর খাঁ দেখিলেন, সিকন্দর শাহ পিস্তল হাতে দাঁড়াইয়া আছেন। তাঁহাকে জিজ্ঞাসা করিলেন,—আপনার কোথাও আঘাত লাগে নাই ত?
সিকন্দর শাহ কিছু লজ্জিতভাবে কহিলেন,—না, আমার কোথাও আঘাত লাগে নাই।
নসীর খাঁ ও বংশীলাল মশাল ঘুরাইয়া দেখিলেন, তিনজন পুরুষ ও একটি স্ত্রীলোক মাটিতে পড়িয়া আছে, কুকুরগুলা সেইখানে দাঁড়াইয়া আছে, রুস্তম সিকন্দর শাহের পাশে। আর তিনজন লোক পলায়ন করিতেছে। কিছু দূরে একখানা প্রকাণ্ড মোটর, তাহার এঞ্জিনের শব্দ শুনিতে পাওয়া যাইতেছে। একবার মোটরে উঠিতে পারিলে এই তিন ব্যক্তিকে আর পাওয়া যাইবে না।
সুলেমান শাহ কোনো কথা কহেন নাই, সিকন্দর শাহকেও কিছু বলেন নাই। যে তিন ব্যক্তি পলায়ন করিতেছিল মশালের আলোকে তাহাদিগকে লক্ষ্য করিয়া দেখিতেছিলেন। হঠাৎ তিনি সবেগে তাহাদের পশ্চাদ্ধাবিত হইলেন।
নসীর খাঁ কহিলেন,—আপনি কেন যাইতেছেন, আমাদিগকে আদেশ করিলেই হইবে।
সুলেমান শাহ থামিলেন না, নসীর খাঁও তাঁহার সঙ্গে দৌড়িলেন।
তিনজনের মধ্যে একজন আগে যাইতেছিল, তাহার অঙ্গে বহুমূল্য পোষাক। সে যেমন মোটরে উঠিবে অমনি সুলেমান শাহ তাহাকে গুলি করিলেন। সে তৎক্ষণাৎ পড়িয়া গেল, অর্দ্ধেক শরীর গাড়ীর ভিতর, অর্দ্ধেক বাহিরে। আর দুইজন টানাটানি করিয়া তাহাকে মোটরে তুলিবার চেষ্টা করিতে লাগিল।
সুলেমান শাহ আর পিস্তল ছুঁড়িলেন না। নসীর খাঁ দৌড়িয়া