গিয়া একটা চাকা অক্ষ্য করিয়া দুই তিনটা গুলি চালাইলেন, ঘোর শব্দে মোটরের টায়ার ফাটিয়া গেল।
পিছন হইতে আরও লোক ছুটিয়া আসিল। মোটরচালক ও আর দুইজন বন্দী হইল। যাহার গুলি লাগিয়াছিল তাহাকে নীচে নামাইয়া সকলে দেখিল, তাহার মৃত্যু হইয়াছে।
সুলেমান শাহ মৃত ব্যক্তির মুখে মশালের আলোক ধরিয়া নসীর খাঁকে জিজ্ঞাসা করিলেন,—চিনিতে পার?
নসীর খাঁ স্তম্ভিত হইয়া বলিলেন,—হুসেন শাহ!
—১৩—
বাড়ীর ভিতর কাহাকেও খুঁজিয়া পাওয়া গেল না। যে তিনজন ধরা পড়িয়াছিল নসীর খাঁর আদেশমত তাহারা হুসেন শাহের মৃতদেহ বহন করিয়া শিরীষ গাছের তলায় লইয়া গেল। সেখানে তিন ব্যক্তির মধ্যে একজন মৃত আর দুইজন আহত। রমণী মূর্চ্ছাভঙ্গের পর উঠিয়া বসিয়াছে। সুলেমান শাহ কহিলেন,—লাশ নদীতে ফেলিয়া দাও, আর সব বন্দীকে নসীর খাঁর বাড়ীতে লইয়া চল।
এ পর্য্যন্ত সিকন্দর শাহকে কেহ কোনো কথা বলে নাই, কেহ কিছু জিজ্ঞাসা করে নাই, তিনিও নীরব ছিলেন। নসীর খাঁর বাড়ীতে উপনীত হইয়া সুলেমান শাহ সিকন্দর শাহকে জিজ্ঞাসা করিজেন,—কি হইয়াছিল? তুমি কেমন করিয়া ওখানে গিয়াছিলে?
সিকন্দর কিছু বলিবার পূর্ব্বেই রমণী কহিল,—জাঁহাপনা! যুবরাজের কোনো অপরাধ নাই, আমি একা অপরাধিনী। আমি উঁহাকে ভুলাইয়া লইয়া গিয়াছিলাম। শাস্তি আমাকে দিন্।