বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:রথযাত্রা ও অন্যান্য গল্প - নগেন্দ্রনাথ গুপ্ত (১৯৩১).pdf/১৭৮

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১৭২
রথযাত্রা ও অন্যান্য গল্প

শাহ ক্রুদ্ধ হইয়া বলেন,—যুবরাজকে জীবিত অথবা মৃত অবস্থায় যেমন করিয়াই হউক ধরিতে হইবে।

 সুলেমান শাহ কহিলেন,—যে প্রকৃত অপরাধী আমি স্বহস্তে তাহার প্রাণদণ্ড করিয়া আমার সিংহাসন নিষ্কণ্টক করিয়াছি। বংশীলাল, ইহাদের কি দণ্ড হওয়া উচিত?

 —ইহাদের পক্ষে কারাদণ্ড যথেষ্ট।

 —তাহাই হইবে। আর এই রমণীর কি শাস্তি হইবে? ইহার কৌশলেই ত যুবরাজের বিপদ হয়।

 কেহ কোনো কথা কহিল না, কেবল সিকন্দর শাহ কিছু বেগের সহিত বলিলেন,—এই রমণী না থাকিলে আমাকে জীবিত দেখিতে পাইতেন না, সে-কথা আপনি শুনিয়াছেন।

 সুলেমান শাহ স্মিতমুখে কহিলেন,—অর্থাৎ তোমাকে বিপদে ফেলিয়া তাহার পর আরও কঠিন বিপদ হইতে তোমাকে রক্ষা করিয়াছে। তাহা হইলে ইহার লঘু দণ্ড হওয়া উচিত।

 এবার সিকন্দর শাহও নীরব, শুধু রমণী কথা কহিল, বলিল,—আমার অপরাধ গুরুতর, আমাকে গুরুদণ্ড দিতে আদেশ হউক।

 সুলেমান শাহ রমণীর মুখের দিকে চাহিয়া দেখিলেন, তাহার পর সিকন্দর শাহের অভিমুখে দৃষ্টি করিলেন। রমণীর মুখে ভয়ের চিহ্ন নাই, চক্ষের দৃষ্টি কঠিন, সিকন্দর শাহের মুখ ম্লান, হস্তের অঙ্গুলি কাঁপিতেছে।

 সুলেমান শাহ রমণীকে বলিলেন,—হুসেন শাহ নাই, আমার আশ্রয়ে তুমি থাকিলে তোমার বাপ-মার কোনো আপত্তি আছে?

 রমণী বাক্‌শূন্য হইল, বিস্ফারিত স্থির নয়নে সুলেমান শাহের দিকে চাহিয়া রহিল।