বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:রথযাত্রা ও অন্যান্য গল্প - নগেন্দ্রনাথ গুপ্ত (১৯৩১).pdf/১৮০

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

না জলে, না স্থলে

 পেন্সন আর পিঞ্জরাপোল দুইটা জিনিষ একই, তফাৎ এই যে, একটা দ্বিপদের জন্য, অপরটা চতুষ্পদের জন্য। বৃদ্ধ বয়সে সকল জানোয়ারের পিঞ্জরাপোলে স্থান হয় না, বুড়া হ’লে সব মানুষের ভাগ্যে পেন্সন জোটে না। সে হিসাবে যদি ধর তা হ’লে আমি ভাগ্যবান, কেন-না আমি যে জলজীয়ন্ত বেঁচে আছি, মাসে মাসে তার একখানা সার্টিফিকেট যোগাড় করে’ পেন্সনের টাকা নিয়ে আসি। কিন্তু তার থেকে যখন ইন্‌কাম ট্যাক্স কেটে নিত, তখন আমার মনে হ’ত আমার উপর এটা ভারি জুলুম হচ্চে।

 গবর্মেণ্টের উপর আমার রাগের এইটে প্রধান কারণ কিন্তু পিঞ্জরাপোলে ঢুকে শিং দিয়ে গুঁতোবার চেষ্টা করা কিংবা জোয়ান জানোয়ারের মতো তিড়িংমিড়িং করে’ লাফানো যেমন ভুল, পেন্সনভোগীর পক্ষে তেড়েমেড়ে রাজনৈতিক আন্দোলনে যোগ দিতে যাওয়া সেই রকম ভুল। বয়স হ’লে হাতপায়ের গাঁটে গাঁটে যেমন বাত ধরে, মনের গাঁটগুলোও সেই রকম বেতো হয়ে পড়ে।

 সে কথাট। মনে রাখা উচিত ছিল আমার।

 পেন্সন পাবার পূর্ব্বে রায় বাহাদুর খেতাব পেয়েছিলুম। কয়েকজন বন্ধু আমাকে বুঝিয়ে দিলেন রায় বাহাদুর আর রাজা বাহাদুর সমান, কেন-না রায় মানে রাজা। নতুন উপাধি একখানা তক্তায় লিখিয়ে বাড়ীর দরজা-গোড়ায় ঝুলিয়ে দিলুম। বাড়ীতে ঢুক্‌তে, বাড়ী থেকে বেরুতে সে লেখা আমার চোখে পড়্‌ত—রায় ভোলানাথ মিত্র বাহাদুর। বাড়ীর সুমুখ দিয়ে যে যেত তার নজরে সেটা ঠেক্‌ত।