আমার জানা একটি লোক রায় বাহাদুর হয়েছিল, তাকে নাম ধরে’ ডাক্বার জো ছিল না, কেউ রায় বাহাদুর না বল্লে চটে লাল হ’ত। আমার ততটা না হোক্ রায় বাহাদুর বললে যে শুন্তে ভাল লাগ্ত সে কথা কেমন করে’ অস্বীকার কর্ব?
কোন্ সময় যে লম্বা নামওয়ালা একটা আন্দোলনের বন্যা দেশে এসে পড়্ল তা বুঝতেই পারা গেল না। অভিধানে ননকোঅপারেশনের জোড়াতাড়া দিয়ে একটা মানে পাওয়া যায়, কিন্তু কে কার সঙ্গে যে ননকোঅপারেট করে, সে একটা কঠিন হেঁয়ালী হয়ে উঠ্ল। গবর্মেণ্টের সঙ্গে যোগ দিতে না হ’লে সরকারী চাকরী এক ধার থেকে ছাড়তে হয়, হয়ত পেন্সন নিয়েও টানাটানি পড়ে। প্রজারা বলে, জমিদারের খাজনা দেবে না, তারপর হয়ত ধোপা-নাপিতও বন্ধ হয়ে যাবে। শুধু তাই নয়, একদিন যদি গৃহিণী ঝঙ্কার দিয়ে বলে’ বসেন তোমার সঙ্গে আর কোঅপারেট কর্ব না, কাল থেকে ভাঁড়ার তুমি বের করে’ দিও, তোমার সংসার তুমি দেখো—এই বলে চাবির গোছা আমার পায়ের কাছে ঝনাৎ করে’ ফেলে দিয়ে যদি ফর্কে চলে’ যান তখন আমি দাঁড়াই কোথায়?
কয়েকজন রায় বাহাদুর তাদের সনদ ফিরিয়ে দিলে, জনকতক কবে কোথায় কি মেডেল পেয়েছিল ফেরত পাঠিয়ে দিলে। আমার রায় বাহাদুরীর ঝোলানো তক্তাখানায় লোকে অন্য রকম নজর দিতে আরম্ভ কর্লে। আমার বস্বার ঘর ঠিক রাস্তার উপর, খড়খড়ীর পাখি খুলে লোকের চলাচল দেখ্তাম, আর তাদের কথা জানালা বন্ধ করে’ দিলেও কানে আস্ত। মাঝে মাঝে কথাগুলো শুন্তে তেমন মিষ্টি লাগত না, বিশেষ যখন ছেলে-ছোকরার দল সে-পথ দিয়ে যেত।