—তুমি রেখে যাও, আমি ভাল করে’ পড়ে’ ভেবে দেখ্ব।
নিতাই কাগজগুলা রেখে দিয়ে, রেগে দুম্ দুম করে’ সিঁড়ি নেমে চলে’ গেল।
—৩—
সভাতে গিয়ে দেখি লোকে লোকারণ্য। ভলণ্টিয়ারদের পিছনে আমি প্রবেশ কর্তেই চারদিকে হাততালি পড়ে’ গেল। কর্ত্তৃপক্ষ থেকে একজন আমাকে সভাপতি নির্ব্বাচন কর্বার প্রস্তাব কর্তেই আবার হাততালি। আমি উঠে গিয়ে সভাপতির আসন গ্রহণ করে’ বক্তৃতা আরম্ভ করে’ দিলুম। প্রথম প্রথম কথা ঠেকে ঠেকে যেতে লাগ্ল, তারপর কোনোমতে খানিক বল্লুম।
নিতাইয়ের লেখা স্পীচ থেকে একটা কথাও বলিনি। আমি নিজে যেমন পেরেছিলুম একটুখানি লিখে মুখস্থ করেছিলুম। বক্তৃতা শেষ করে’ যখন বসে’ পড়লুম, তখন অল্প-স্বল্প হাততালি পড়ল বটে, কিন্তু শ্রোতাদের যে খুব ভাল লেগেছে তা মনে হ’ল না। অপর বক্তারা বেশ তেজের সহিত অনেক কথা বল্লেন। সভা ভঙ্গ হবার পর দেখি, নিতাই মুখ ভার করে’ দাঁড়িয়ে আছে। দলপতিদের মধ্যে একজন আমাকে বল্লেন, প্রথমবারের হিসাবে আপনার বক্তৃতা মন্দ হয়নি। অভ্যাস নেই বলে’ আপনাকে একটু সাম্লে বল্তে হয়েচে, আর দিনকতক পরে খোলাখুলি সব কথা বল্তে পার্বেন।
পরের দিন খবরের কাগজে নানা রকম মন্তব্য প্রকাশ হ’ল। দেশী কাগজে লিখলে, আমি খুব সাবধানে বলেছি, তবে আমার মত লোকের কাছ থেকে এর বেশী আশা করা যায় না। ইংরেজদের কাগজে লিখলে, আমার মতন লোককে এমন দলে মিশতে দেখে তারা বিস্মিত